ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় আর মাঠের লড়াই— সব বাধা টপকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (আরসিবি) সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিলেন স্মৃতি মন্ধানা। বৃহস্পতিবার বড়োদরায় উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (WPL) ফাইনালে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বেঙ্গালুরু। ২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪১ বলে ৮৭ রানের অধিনায়কসুলভ ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন মন্ধানা।
ইতিহাস গড়ল আরসিবি
এই জয়ের ফলে এক অনন্য রেকর্ডের মালিক হলো বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজি। আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের পুরুষ ও মহিলা— উভয় বিভাগেই ট্রফি জয়ের নজির গড়ল। তবে বিরাট কোহলিদের একটি ট্রফির তুলনায় মন্ধানারা দুটি ট্রফি জিতে এখন সাফল্যের বিচারে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, টানা চারবার ফাইনালে উঠেও হারের মুখ দেখতে হলো দিল্লি ক্যাপিটালসকে। গ্যালারিতে উপস্থিত ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখেও শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটাতে পারল না জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের দল।
দিল্লির রেকর্ড রান ও লড়াই
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান সংগ্রহ করে। ডব্লিউপিএল ফাইনালের ইতিহাসে এটিই কোনো দলের করা সর্বোচ্চ স্কোর। দিল্লির হয়ে লিজ়েল লি (৩৭) এবং শেফালি বর্মা (২০) শুরুটা ভালো করলেও মিডল অর্ডারে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের ৩৭ বলে ৫৭ রান এবং লরা উলভার্টের ২৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংস বড়ো স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। শেষদিকে শিনেল হেনরির ১৫ বলে ঝোড়ো ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস দিল্লিকে ২০০-র গণ্ডি পার করায়। আরসিবির হয়ে লরেন বেল মিতব্যয়ী বোলিং করলেও বাকিরা রান আটকাতে ব্যর্থ হন।
মন্ধানা-ভল জুটির প্রতিরোধ
২০৪ রানের চাপ নিয়ে খেলতে নেমে শুরুতেই গ্রেস হ্যারিসের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল আরসিবি। কিন্তু স্মৃতি মন্ধানা এবং তরুণ প্রতিভা জর্জিয়া ভলের ১৬৫ রানের রেকর্ড জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এটি চলতি প্রতিযোগিতার প্রথম শতরানের জুটি।
- জর্জিয়া ভল: ৫৪ বলে ৭৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন।
- স্মৃতি মন্ধানা: ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৮৭ রান করে আউট হন। এই ইনিংসের সুবাদে হরমনপ্রীত কৌরকে টপকে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ও নিজের দখল নিলেন আরসিবি অধিনায়ক।
ব্যক্তিগত বিপর্যয় ছাপিয়ে মন্ধানার প্রত্যাবর্তন
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন স্মৃতি মন্ধানা। দীর্ঘদিনের প্রেমিক পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে বিয়ে স্থগিত হওয়া এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও ক্রিকেটে তার প্রভাব পড়তে দেননি তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ফের প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বসেরাদের একজন।
নাটকীয় সমাপ্তি
শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৮ রান। রিচা ঘোষ ও মন্ধানা দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে রাধা যাদব পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে ২ বল বাকি থাকতেই বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করেন। ডাগ আউটে মন্ধানার হাত ধরে বন্ধু জেমাইমার লড়াই শেষ হলো আরও একটি ট্রফি জয়ের উল্লাসে।

