বাঁকুড়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত রামনবমী: প্রশাসনের নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

বাঁকুড়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত রামনবমী: প্রশাসনের নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

ধর্মীয় আবেগ আর স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বাঁকুড়া শহরে সম্পন্ন হলো রামনবমীর মহা-শোভাযাত্রা। রবিবার সকালে শহরের নূতনচটির পাঁচবাগা ময়দান থেকে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয়। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকায় কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শোভাযাত্রার আকর্ষণ ও জনজোয়ার

এদিনের শোভাযাত্রায় সাজসজ্জা ছিল চোখে পড়ার মতো। সুসজ্জিত ট্যাবলোতে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, ভারতমাতা এবং গোমাতার প্রতিকৃতি প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও ছিল রামশীলা নিয়ে বিশেষ আয়োজন। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল খুদে পড়ুয়ারা; বহু দম্পতি তাঁদের সন্তানদের রাম ও হনুমান সাজিয়ে মিছিলে শামিল করেন। উদ্যোক্তাদের মতে, এ বছর সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।

রুট নিয়ে মতবিরোধ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

শোভাযাত্রার গতিপথ নিয়ে আয়োজক কমিটি এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে শুরুতে কিছুটা মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নির্ধারিত রুটেই পরিক্রমা সম্পন্ন করেন উদ্যোক্তারা। কোনো ধরনের অশান্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য বাঁকুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ‘রামনবমী উদযাপন সমিতি’-র সদস্যরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মিছিলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয় ছিলেন।

উদ্যোক্তাদের প্রতিক্রিয়া

শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। রামনবমী উদযাপন সমিতির সাধারণ সম্পাদক রামাবতার ফোকলা জানান:

“প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের পূর্ণ সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এদিনের শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।”

শহরের রাজপথ পরিক্রমা শেষে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে শোভাযাত্রাটি সমাপ্ত হয়। কড়া নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উন্মাদনার মেলবন্ধনে বাঁকুড়ার রামনবমী উদযাপন এ বছর এক অনন্য মাত্রা পেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.