ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারে ভারসাম্য প্রয়োজন: পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারে ভারসাম্য প্রয়োজন: পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ডিজিটাল বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছে, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সংবাদমাধ্যমের ‘অধিকারের সীমা’ পুনর্মূল্যায়নের ডাক দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের অধিকার) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের (ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকার) মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি।

মামলার প্রেক্ষাপট

দিল্লি হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনাটি একটি ফৌজদারি মামলা কেন্দ্রিক, যেখানে আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়া এক ব্যক্তি সম্পর্কে খবর পরিবেশনের ওপর নিম্ন আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পাশাপাশি, সেই সংক্রান্ত পুরনো খবরগুলি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শীর্ষ আদালত আবেদনটি খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে।

সংবিধান ও ‘ভুলে যাওয়ার অধিকার’

সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’র (Privacy) অংশ হিসেবে ‘ভুলে যাওয়ার অধিকার’ (Right to be Forgotten)-কে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • অধিকারের পরিধি: এই অধিকারের বলে কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট থেকে তাঁর অতীত জীবনের অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলার দাবি জানাতে পারেন।
  • আদালতের বিচার্য: অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই অধিকার কতটা কার্যকর হবে এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলা যাবে কি না, তা এখন শীর্ষ আদালতের আলোচনার মূল বিষয়।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতিদের মতে, ডিজিটাল যুগ একটি নতুন সময়ের সূচনা করেছে। এখানে তথ্যের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। তাই একদিকে যেমন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে তেমনই কোনো ব্যক্তি যদি আইনি লড়াইয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান রক্ষার্থে ‘ভুলে যাওয়ার অধিকার’-কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে—তা নির্ধারণ করার সময় এসেছে।

আগামী দিনে এই মামলার রায় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কর্মপদ্ধতি এবং নাগরিকদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.