পুলিশই এবার তৃণমূলের পদাধিকারী! বাঁকুড়ায় ভিলেজ পুলিশকে ব্লকের সাধারণ সম্পাদক করায় তুঙ্গে বিতর্ক

পুলিশই এবার তৃণমূলের পদাধিকারী! বাঁকুড়ায় ভিলেজ পুলিশকে ব্লকের সাধারণ সম্পাদক করায় তুঙ্গে বিতর্ক

প্রশাসনের সঙ্গে রাজনীতির মিশেল এ রাজ্যে নতুন নয়, তবে এবার বাঁকুড়ার সিমলাপালে যে ঘটনা ঘটল, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের জনৈক ভিলেজ পুলিশকে তৃণমূলের ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিজেপি। শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।


ঘটনার সূত্রপাত

গত শনিবার সিমলাপাল ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে মধুসূদন কর্মকারের। অভিযোগ, মধুসূদনবাবু ২০১২ সাল থেকে ওই ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামে ভিলেজ পুলিশ হিসেবে কর্মরত। একজন কর্মরত পুলিশকর্মী কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে থাকতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।


তৃণমূলের যুক্তি: ‘উন্নয়নে সামিল হতে বাধা নেই’

এই নজিরবিহীন নিয়োগকে সমর্থন করেছেন সিমলাপাল ব্লক তৃণমূল সভাপতি সৌমেন পাত্র। তাঁর দাবি, এর মধ্যে অন্যায়ের কিছু নেই। তিনি বলেন:

“মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতে চেয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ তৃণমূলের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। মধুসূদন কর্মকার নিজের সরকারি দায়িত্ব পালনের পর দলের কাজ করতে চেয়েছেন, তাই তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সরকারি কাজে থেকেও রাজনীতি করা যায়।”

তবে বিতর্কের গুরুত্ব বুঝে তালড্যাংরার তৃণমূল বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু জানান, যদি এমন কোনো ভুল হয়ে থাকে তবে তিনি ব্লক সভাপতিকে তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দেবেন।


বিজেপির তোপ: ‘পুলিশ ও শাসক দল এখন এক’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি। তালড্যাংরা ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌভিক পাত্রের মতে, এ রাজ্যে পুলিশ ও তৃণমূলের মধ্যে যে কোনো পার্থক্য নেই, এই ঘটনা তারই জীবন্ত প্রমাণ। বিজেপির আরও অভিযোগ:

  • যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে তৃণমূল কর্মীদেরই সিভিক বা ভিলেজ পুলিশ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
  • প্রশাসনের নিরপেক্ষতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
  • সাধারণ মানুষের বোঝা উচিত কীভাবে সরকারি পরিকাঠামোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা

সাধারণত সরকারি বা আধাসরকারি চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে থাকা সার্ভিস রুল বা নিয়মবিধির পরিপন্থী। একজন ভিলেজ পুলিশ সরাসরি দলীয় পদ পাওয়ায় জেলার প্রশাসনিক মহলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মধুসূদন কর্মকার শেষ পর্যন্ত তাঁর দলীয় পদে বহাল থাকেন নাকি চাপের মুখে তালিকা সংশোধন করা হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.