নির্জনতার সুযোগ নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে চলত মদ্যপানের আসর। তার প্রতিবাদ করতেই প্রাণ দিতে হলো ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে। হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত শানু মান্নাকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবককে রবিবার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে হাড়হিম করা তথ্য
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী মারা গেছেন, ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এই একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে শানু মান্না ও তার সঙ্গীরা দিনের পর দিন বৃদ্ধার বাড়িতে মদ্যপানের আসর বসাত। গত শুক্রবার নিজের ঘর থেকে ওই বৃদ্ধার পচাগলা ও বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্যসমূহ:
- নৃশংসতা: অভিযোগ, খুনের সময় বৃদ্ধার মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট: খুনের পর বাইরে থেকে বাড়ির তিনটি দরজাতেই তালা দিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
- উদ্ধার: গত শুক্রবার দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে জানলা দিয়ে মেঝেতে বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেফতারি
পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ চার দিন যোগাযোগ করতে না পারায় সন্দেহ দানা বাঁধে। শুক্রবার বৃদ্ধার মেয়ের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। স্থানীয়দের দেওয়া সূত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ৩০ বছর বয়সি শানু মান্নাকে আটক করে।
ক্রমাগত জেরার মুখে ধৃত যুবক স্বীকার করেছে যে, ঘটনার দিনও সেখানে মদের আসর বসেছিল। বৃদ্ধা বাধা দিলে রাগের মাথায় তাঁকে খুন করা হয়। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত শানুকে হেফাজতে নিয়ে বাকি অপরাধীদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এলাকায় এই নৃশংস ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

