সপ্তাহের শেষ লগ্নে আতঙ্ক ছড়াল উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য অসম এবং প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও চিনেও। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকা।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও উৎসস্থল
জাতীয় ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। ভূ-পৃষ্ঠের গভীরতা কম থাকায় কম্পন বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে, যদিও এর স্থায়িত্ব ছিল অত্যন্ত কম।
- উৎসস্থল: পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং (Gyalshing)।
- প্রভাবিত এলাকা: উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি। এছাড়া সিকিম ও অসমের কিছু অংশ এবং নেপাল ও দক্ষিণ তিব্বত (চিন) সীমান্তেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
জনমনে আতঙ্ক
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ কম্পন অনুভূত হয়। অনেক জায়গায় মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
ঘন ঘন কম্পন: উদ্বেগে ভূ-বিজ্ঞানীরা
গত মঙ্গলবারই রাত ৯টা নাগাদ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল। সেবার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬। ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশেও সেই সময় কম্পন অনুভূত হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ফের উত্তরবঙ্গে কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ভূমিকম্প প্রবণ জোনের মধ্যে পড়ে। ফলে এই অঞ্চলে ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন অস্বাভাবিক নয়। তবুও গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’বার ভূ-কম্পন নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে বিশেষজ্ঞদের।

