বিশ্ববাণিজ্যে নয়া সংকট: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে হুথিদের যোগদানের আশঙ্কায় রুদ্ধ হতে পারে বাব-এল-মান্ডেব প্রণালী

বিশ্ববাণিজ্যে নয়া সংকট: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে হুথিদের যোগদানের আশঙ্কায় রুদ্ধ হতে পারে বাব-এল-মান্ডেব প্রণালী

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিতে চলেছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী (Yemeni Houthis) যদি সরাসরি ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে যোগ দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে এক চরম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে সমর্থন জোগাতে হুথিরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব-এল-মান্ডেব’ প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait) বন্ধ করে দিতে পারে। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


ইরানের ‘ত্রি-স্তরীয়’ কৌশল ও হুথিদের হুঁশিয়ারি

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মোকাবিলায় ইরান একটি পরিকল্পিত ত্রি-স্তরীয় রণকৌশল গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এই কৌশলের ধাপগুলি হলো: ১. হরমুজ প্রণালী: প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের ওপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা ভীতি তৈরি করা। ২. হিজবুল্লাহর আক্রমণ: দ্বিতীয় ধাপে লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইজরায়েলে হামলা জোরদার করা। ৩. হুথিদের সক্রিয়তা: চূড়ান্ত ধাপে ইয়েমেনের হুথিদের যুদ্ধে নামিয়ে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ রুদ্ধ করা।

হুথি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজন পড়লে যেকোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়বে।


কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্ডেব প্রণালী?

হরমুজ প্রণালীর মতোই বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বাব-এল-মান্ডেবের গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রণালীটি লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।

  • তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
  • নির্ভরশীল দেশ: ইজরায়েল, জর্ডন, সৌদি আরব, মিশর ও সুদান তাদের সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য মূলত এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।
  • বাণিজ্য চাবিকাঠি: এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম বাণিজ্যিক যোগসূত্র হলো এই পথ।

ভারতের ওপর প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইরান জানিয়েছে যে, আমেরিকা ও ইজরায়েল বাদে বাকি দেশগুলোর জন্য এই পথ উন্মুক্ত। ভারতের একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধীরে ধীরে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। তবে বাব-এল-মান্ডেব বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।

যদি এই প্রণালীটি রুদ্ধ হয়, তবে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.