মুস্তাফিজুর রহমানের পাশে পাকিস্তান। আইপিএল থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের জোরে বোলার খেলতে পারেন পাকিস্তান সুপার লিগে। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লিগে নাম লিখিয়েছেন বাঁহাতি বোলার। এ বার আইপিএল খেলার সুযোগ হাতছাড়া হলেও স্বাভাবিক রয়েছেন মুস্তাফিজুর।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মুস্তাফিজুরকে গত শনিবার দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে তাঁর খেলা বন্ধ হচ্ছে না। তিন দিনের মধ্যে পাকিস্তানের লিগের সরকারি ওয়েব সাইটে মুস্তাফিজুরের নাম। সমাজমাধ্যমেও মুস্তাফিজুরের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট কর্তারা। বাংলাদেশের বোলারের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘‘ব্যাটারদের সাবধানে খেলতেই হবে। পিএসএল ১১-এ যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।’’ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পরই মুস্তাফিজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাক কর্তারা। তাঁকে পিএসএলে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আলোচনার পর তাঁদের সম্মতি দিয়েছেন মুস্তাফিজুর।
এই মুহূর্তে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন মুস্তাফিজুর। ভাল ফর্মেও রয়েছেন। আইপিএলের গত নিলামে কেকেআর তাঁকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল। আইপিএল থেকে বাদ পড়ায় সেই টাকা পাবেন না বাংলাদেশি বোলার। তা নিয়ে অবশ্য তাঁর বিশেষ আক্ষেপ নেই। আইপিএল খেলতে না পারার হতাশা থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ মহম্মদ আশরাফুল বলেছেন, ‘‘মুস্তাফিজুর একদম শান্ত রয়েছে। চার দিকে যে সব আলোচনা হচ্ছে, সে সব নিয়ে একটুও বিচলিত নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ভারত, বিপিএল বা আইসিস— কোনও ব্যাপারেই ওর আগ্রহ নেই। এখন ওর একমাত্র লক্ষ্য রংপুরের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া। ওর মাথায় শুধু পরের ম্যাচ। মুস্তাফিজুর অন্য ধরনের মানুষ।’’ মুস্তাফিজুরের বিপিএলের সতীর্থেরাও তাঁর মধ্যে কোনও পরিবর্তন দেখছেন না। মহম্মদ সইফুদ্দিন বলেছেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছিল, ফিজ ভাই খুব হতাশ হয়ে পড়বে। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। গান শুনছে। আমাদের সঙ্গে রসিকতা করছে। একদম স্বাভাবিক রয়েছে।
আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএল। প্রতিযোগিতা চলবে ৩ মে পর্যন্ত। মুস্তাফিজুর কোন দলের হয়ে খেলবেন তা অবশ্য ঠিক হয়নি। নিলামে যে দল তাঁকে কিনবে, সেই দলের জার্সি গায়ে দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা জোরে বোলারকে। ২০১৮ সালে পিএসএল খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর। সে বার লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পাঁচ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সাত বছর পর আবার তাঁকে দেখা যেতে পারে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লিগে।

