বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসীগামী ইন্ডিগো বিমানে এক যাত্রীর অপেশাদার ও বিপজ্জনক আচরণে চরম আতঙ্ক ছড়াল মাঝআকাশে। অবতরণের ঠিক কয়েক মিনিট আগে ওই যাত্রী বিমানের জরুরি নির্গমন দ্বার (Emergency Door) খোলার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তির অদ্ভুত দাবি— তাঁকে নাকি সেই সময় ‘ভূতে ধরেছিল’।
ঘটনার বিবরণ: দু’বার দরজা খোলার চেষ্টা
গত শনিবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসীগামী ইন্ডিগো’র 6E-185 বিমানে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যাত্রীর নাম মহম্মদ আদনান, যিনি উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার বাসিন্দা। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- প্রথম চেষ্টা: রাত ৮:১৫ মিনিটে বিমানটি ওড়ার মাত্র ১৫ মিনিট পরেই আদনান প্রথমবার এমার্জেন্সি দরজার হাতল নিয়ে কারসাজি শুরু করেন। কেবিন ক্রু তা দেখে ফেললে তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। আদনান সে সময় নিজের ভুল স্বীকার করে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন।
- দ্বিতীয় চেষ্টা: রাত ১০:২০ মিনিটে বিমানটি যখন বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য প্রস্তুত এবং ভূমি থেকে মাত্র ৫০০ ফুট উঁচুতে, তখনই আদনান আচমকা সিট ছেড়ে উঠে ফের দরজা খোলার চেষ্টা করেন।
পাইলটের তৎপরতা ও নিরাপদ অবতরণ
ক্রু মেম্বারদের কাছ থেকে সংকেত পেয়ে পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ল্যান্ডিং স্থগিত করে বিমানটিকে আকাশে চক্কর কাটাতে থাকেন। অবশেষে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে রাত ১০:৩৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। আদনানের এই কাণ্ডে সহযাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা বিমানের ক্রু ও পাইলটকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও ‘ভুতূড়ে’ দাবি
প্রোটোকল মেনে বিমানটি মাটিতে নামার পরপরই আদনানকে সিআইএসএফ (CISF) এবং এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আদনান দাবি করেন:
- তিনি জানতেন না যে ওই হাতলটি টানলে এমার্জেন্সি দরজা খুলে যায়।
- তিনি কেন এমন করেছেন তা তাঁর মনে নেই এবং তাঁর দাবি, সেই মুহূর্তে তাঁকে ‘ভূতে ধরেছিল’।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদনান গোয়া থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন। বারাণসী পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্ত এখনও চলছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা বারাণসী আসছেন।”
আকাশপথে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

