চিরাচরিত প্রথা মেনে ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজে শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে সরস্বতী পুজোয় সামিল হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদার। সারা বছর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সরকারি কাজের ব্যস্ততা থাকলেও, বসন্ত পঞ্চমীর পুণ্যলগ্নে বালুরঘাটের পৈতৃক বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই কাটালেন তিনি।
পারিবারিক আবহে দেবীর আরাধনা
এদিন সকালে দুই কন্যা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে বাগদেবীর আরাধনা করেন সুকান্ত মজুমদার। অঞ্জলি প্রদান শেষে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাড়িতে এভাবেই পুজো করে আসছেন এবং শত ব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহ্যে ছেদ পড়তে দেননি। আর পাঁচটা সাধারণ বাঙালির মতোই ভক্তিভরে প্রার্থনা করেন তিনি।
রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে যেন দ্রুত অশুভ শক্তির কালো মেঘ সরে যায়। ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর অনিশ্চয়তা কিংবা বছরের পর বছর এসএসসি না হওয়া— এই অনাচার থেকে বাংলা মুক্তি পাক। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের যে আন্দোলন করতে হচ্ছে, সেই দুর্দিন যেন শেষ হয়।”
রাজ্যের মানুষের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি পরিবারের ছোটদের ‘সৎ বুদ্ধি’ প্রদানের জন্য দেবীর কাছে আর্জি জানান তিনি।
পড়ুয়াদের বিশেষ বার্তা
দেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ছাত্রজীবনই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। তাই কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং পড়াশোনা, আঁকা কিংবা গান-বাজনা— যার যেদিকে প্রতিভা রয়েছে, সে যেন তা মন দিয়ে চর্চা করে। এই নিষ্ঠার মাধ্যমেই বাংলাকে তথা ভারতবর্ষকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

