প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে ভূস্বর্গ। শুক্রবার বিকেলে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কের জ়োজিলা গিরিপথে ভয়াবহ তুষারধসের জেরে প্রাণ হারালেন অন্তত সাত জন। তুষারস্তূপের নীচে একাধিক যানবাহন চাপা পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র সিংহ।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেলে জ়োজিলা পাসের ‘জিরো পয়েন্ট’ এবং ‘মিনিমার্গ’-এর মধ্যবর্তী অংশে আচমকাই বিশাল তুষারধস নামে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা বরফ ও পাথরের স্তূপের নীচে আটকে পড়ে বেশ কিছু পর্যটক ও পণ্যবাহী গাড়ি। তুষারধসের তীব্রতায় গাড়িগুলো কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনা, আধাসামরিক বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। ভারী তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বরফ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তুষারধসের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়ক বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর শোকপ্রকাশ
দুর্ঘটনার বিষয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন:
“জ়োজিলা পাসে তুষারধসের অভিঘাতে সাত জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং পাঁচ জনের আহত হওয়ার খবর শুনে আমি মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। আহতদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”
সতর্কবার্তা
শুক্রবার শুধুমাত্র জ়োজিলা পাস নয়, শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কের আরও বেশ কিছু অংশে ভূমিধস ও ছোটখাটো তুষারধসের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও চালকদের এই পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

