২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের দামামা বাজতেই বাংলায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরাল বিজেপি। টিকিট না পেয়ে একদিকে যখন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়কের ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার গুঞ্জন, অন্যদিকে তখন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্যার হাত ধরে শক্তিবৃদ্ধি করল গেরুয়া শিবির।
জামালপুরে বিজেপির চমক: প্রচারে নেমেই তৃণমূল নেত্রীকে পাশে পেলেন অরুণ হালদার
গত সোমবার প্রথম পর্যায়ের ১৪৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পদ্ম-প্রতীক পেয়েছেন জাতীয় তফশিলি কমিশনের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। মঙ্গলবার সকালে জৌগ্রামের গোপালপুর মুক্তকেশী কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রচার কর্মসূচিতে তাঁর পাশেই দেখা গেল তৃণমূলের তিনবারের জেলা পরিষদ সদস্যা মেহেলা কীর্তনীয়া সাউ-কে। ২০০৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত জৌগ্রাম থেকে ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী এই মতুয়া নেত্রীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
যোগদানের কারণ প্রসঙ্গে মেহেলা বলেন:
“তৃণমূল সরকার বাংলার নারীদের সুরক্ষা দিতে পারেনি এবং কর্মসংস্থান তৈরিতেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মোদী সরকারের উন্নয়নই আমাকে বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট করেছে।”
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে তাঁকে দলে গ্রহণ করা হবে।
চুঁচুড়ায় অভিমানী অসিত মাল: রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ইঙ্গিত
অন্যদিকে, টিকিট না পেয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চুঁচুড়ার টানা তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক অসিত মাল। ২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে আসা অসিতবাবু এবার দলের প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
- বিস্ফোরক মন্তব্য: “আমরা তো চুনোপুঁটি লোক, তাই দল আমাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেনি। কর্মীরা আমায় ভালোবাসে, তাই তাদের মন ভেঙে গিয়েছে।”
- সন্ন্যাস নেওয়ার গুঞ্জন: রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমি আর রাজনীতি করব না।”
‘তারুণ্যে’ ভরসা তৃণমূলের: চুঁচুড়ায় বাজি দেবাংশু ভট্টাচার্য
অসিত মালের বদলে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য-কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। দলের কনিষ্ঠতম মুখপাত্র এবং ২০২৪-এর তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর ওপর এবার বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঁপেছে দল।
প্রার্থী হওয়ার পর দেবাংশুর প্রতিক্রিয়া:
“আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে দল বারবার সুযোগ দিয়েছে। এবার চুঁচুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে লড়াই করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।”
তবে পুরনো বিধায়কের ক্ষোভ এবং নতুনের আগমনে চুঁচুড়ার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

