মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং হুঁকো— এই দুইয়ের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। এর আগে ইরফান পাঠান বা মনোজ তিওয়ারির মতো সতীর্থরা ধোনির এই নেশা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেও, এবার সরাসরি মুখ খুললেন ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার স্যাম বিলিংস। তাঁর দাবি, আইপিএল চলাকালীন ধোনির হোটেলে কেবল হুঁকো সাজানোর জন্যই একজন নির্দিষ্ট কর্মী নিযুক্ত থাকতেন।
হোটেলের ঘরেই বসত আসর
২০১৮ ও ২০১৯ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) হয়ে খেলেছেন স্যাম বিলিংস। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, ধোনি হোটেলের বাইরে খুব একটা বেরোতে পারতেন না। ফলে তাঁর ঘরের দরজাই সতীর্থদের আড্ডার প্রধান কেন্দ্র ছিল। বিলিংস বলেন:
“আইপিএল চলাকালীন ধোনির ঘরে একজন ‘সীসা ম্যান’ (হুঁকো প্রস্তুতকারক) থাকত। তার একমাত্র কাজই ছিল কাঁচের পাত্রটির দেখাশোনা করা এবং হুঁকো সাজিয়ে দেওয়া।”
তবে বিলিংস এও স্পষ্ট করেছেন যে, ধোনি নিজে ধূমপান করলেও কোনো সতীর্থকে কক্ষনো হুঁকো খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতেন না।
বিতর্কের উর্ধ্বে ‘ব্যক্তি’ ধোনি
তামাকের নেশা থাকলেও ব্যক্তি ধোনির প্রতি বিলিংসের শ্রদ্ধা বিন্দুমাত্র কমেনি। তাঁর মতে, ধোনি একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং অত্যন্ত শান্ত মনের মানুষ। বিলিংসের কথায়, “এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও ও একদম মাটির মানুষ। আমরা দুজনেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের অন্ধ ভক্ত। হোটেল রুমে আমরা একসঙ্গে বসে ওদের সব খেলা দেখতাম।”
অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে ধোনি হোটেলের পাব বা সাধারণ জায়গায় যেতে পারেন না। তাই অনুশীলন ও ম্যাচের বাইরে অধিকাংশ সময় ঘরেই কাটে তাঁর। সেই নিভৃত কোণেই বন্ধু ও সতীর্থদের জন্য অবারিত দ্বার থাকে ‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর।
আইপিএলের আগে নতুন বিতর্ক?
আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে এবারের আইপিএল। ৪৪ বছর বয়সেও ধোনি চেন্নাইয়ের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও ভারতে হুঁকো আইনিভাবে নিষিদ্ধ নয় এবং অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, তবুও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এই নেশা নিয়ে বিলিংসের মন্তব্য বিশ্বকাপের জোড়া খেতাবজয়ী অধিনায়কের ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।

