বয়স ৩৭ ছুঁইছুঁই, কিন্তু ব্যাট হাতে তিনি এখনও সেই চিরচেনা ‘রান মেশিন’। দীর্ঘ ন’মাস কুড়ি-বিশের ফরম্যাট থেকে দূরে থাকার পর আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে স্বমহিমায় ফিরলেন বিরাট কোহলি। শনিবার সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। এমনকি সতীর্থ রবিচন্দ্রন অশ্বিনও কোহলির ফিটনেস ও খেলার ধরনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
চিন্নাস্বামীতে কোহলি-ঝড়
হায়দরাবাদের দেওয়া ২০২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন কোহলি। চার মেরে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। জিও-হটস্টারের একটি অনুষ্ঠানে অশ্বিন বলেন,
“বিরাট আবার দেখিয়ে দিল টি-টোয়েন্টি ঠিক কীভাবে খেলতে হয়। ওর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখে ওর প্রতি আমার সম্মান আরও বেড়ে গিয়েছে।”
অশ্বিনের চোখে বিরাটের ‘বিশেষ’ দিক
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কোহলির রানিং-বিটন-দ্য-উইকেট বা দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষিপ্রতা অবাক করেছে অশ্বিনকে। তিনি বলেন, “ও যখন ৪০ রানে ব্যাট করছে, তখন একটি সিঙ্গল নেওয়ার জন্য যেভাবে দৌড়ল তা অবিশ্বাস্য। নন-স্ট্রাইকার এক রান পূর্ণ করার আগেই বিরাট দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় শুরু করে দিয়েছে। ৫৭ মিটারের বাউন্ডারিতেও ও দুই রান নিচ্ছে, এটা ভাবা যায় না।”
বিরতিই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
গত বছরের আইপিএল ফাইনালের পর এই প্রথম টি-টোয়েন্টি খেললেন কোহলি। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি যে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন, তার প্রমাণ মিলেছে বছরের শুরুতেই। জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান করেছিলেন তিনি। তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩০২ রান (দুটি শতরানসহ)।
ম্যাচ শেষে নিজের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কোহলি বলেন:
- শারীরিক ফিটনেস: “যতক্ষণ আমি ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি, ততক্ষণ সব ঠিক থাকবে। বাড়তি কোনো শট খেলার চেষ্টা আমি করিনি।”
- মানসিক তরতাজা ভাব: “বিগত ১৫ বছরের ব্যস্ত সূচির পর এই বিরতিগুলো আমাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। আমি মাঠে নামলে সব সময় ১২০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি শুধু জায়গা ধরে রাখতে নয়, দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।”
বর্তমানে ভারতের হয়ে কেবল একটি ফরম্যাটে খেললেও, কোহলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সঠিক বিশ্রাম এবং কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে এই বয়সেও তরুণদের মতো ক্ষিপ্র রেখেছে। আইপিএলের শুরুতেই বিরাটের এই ছন্দ আরসিবি সমর্থকদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে।

