ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দূর করতে ময়দানে বিচারকেরা: শুরু হলো তথ্য যাচাইয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞ

ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দূর করতে ময়দানে বিচারকেরা: শুরু হলো তথ্য যাচাইয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) মেটাতে তৎপরতা শুরু করল কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকেই নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকিতে এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।


তৎপর প্রশাসন: ২০০ লগ-ইন আইডি সক্রিয়

কমিশন সূত্রে খবর, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের কাজের সুবিধার্থে ইতিমধ্যেই ২০০টি লগ-ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে। রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বিচারকদের কাজের ধরন এবং কোন কোন নথি যাচাই করতে হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার সকালেই আধিকারিকদের অনলাইন পোর্টাল সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ওটিপি (OTP) সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক সমস্যা থাকলেও বর্তমানে তা মিটে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

সময়সীমা নিয়ে সতর্ক প্রধান বিচারপতি

এদিনের বৈঠকে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং সময় অত্যন্ত সীমিত। প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে। প্রধান বিচারপতির কথায়:

“বিপুল পরিমাণ কাজ বকেয়া রয়েছে। এই অবস্থায় এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করা উচিত নয়। নাগরিকত্ব আদালত ঠিক করবে না, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেকই সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে।”

হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪০ জন বিচারককে এই কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে।


নথি সংক্রান্ত বিতর্ক: এজি বনাম এএসজি

বৈঠকে নথিপত্র গ্রহণ করা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়:

  • রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG): তিনি দাবি করেন, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মতো নথি অন্যান্য রাজ্যে গ্রহণ করা হলেও এখানে কেন ব্রাত্য রাখা হচ্ছে? কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য নথি না নিলে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
  • অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG): অশোক চক্রবর্তী পাল্টা যুক্তি দেন যে, অন্য রাজ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলার তুলনা করা চলে না। ‘বাংলার বাড়ি’-র মতো নথি এখানে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নথি জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর নতুন করে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।


নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আশ্বাস

মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলেন বিচারবিভাগীয় অফিসারদের একাংশ। এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, প্রয়োজন অনুযায়ী স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে নির্ভয় কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.