বিসিবি-র তদন্ত রিপোর্টে অসন্তোষ জাহানারার, যৌন হেনস্থা ইস্যুতে আরও স্বচ্ছতার দাবি

বিসিবি-র তদন্ত রিপোর্টে অসন্তোষ জাহানারার, যৌন হেনস্থা ইস্যুতে আরও স্বচ্ছতার দাবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জাতীয় মহিলা দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম। প্রাক্তন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগের তদন্তে বিসিবি-র প্রাথমিক পদক্ষেপে তিনি ‘হতাশ’ বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। বোর্ডের দেওয়া বিবৃতিতে তথ্যের অভাব এবং অসহযোগিতার অভিযোগে সরব হয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত বছরের নভেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন জাহানারা। তাঁর দাবি ছিল, ২০২২ সালের মহিলা বিশ্বকাপ চলাকালীন মঞ্জুরুল তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। এই অভিযোগ সামনে আসার পর বিসিবি বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত রিপোর্ট ও বোর্ডের অবস্থান

বিসিবি-র সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, জাহানারার মোট চারটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেছে কমিটি। বোর্ড জানিয়েছে:

  • দুটি অভিযোগে প্রমাণ: প্রাথমিক তদন্তে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে দুটি ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।
  • দুটি অভিযোগে প্রমাণের অভাব: বাকি দুটি অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি বোর্ডের।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই রিপোর্ট পাওয়ার পর জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন বোর্ডের আইনি দল দেখছে। হেনস্থার মতো ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি।

জাহানারার আপত্তির কারণ

রবিবার জাহানারার আইনজীবী স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তের অগ্রগতি এবং ধরন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তাঁদের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো:

১. অস্পষ্টতা: কোন দুটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তা বোর্ড স্পষ্ট করেনি। ২. নথির অভাব: প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর তার কোনো প্রতিলিপি (Copy) জাহানারাকে দেওয়া হয়নি। ৩. তথ্যের গোপনীয়তা: তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশদ বিবরণ থেকে অভিযোগকারীকেই অন্ধকারে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জাহানারার আইনজীবীর মতে, “তদন্ত স্বচ্ছ হলে সব বিষয়ে অভিযোগকারীকে জানানো হতো। এই গোপনীয়তা আমাদের সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

ক্রিকেটে প্রতিবাদের ঢেউ

জাহানারার এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন আরও কয়েকজন মহিলা ক্রিকেটার। জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়কের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিসিবি-র আইনি দল তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং জাহানারার তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.