দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে ভারতে ধরা পড়লেন বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম ওরফে দাউদ খান। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে ফয়সাল এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী আলমগীর শেখকে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (DB) চার্জশিটে এই দু’জনকেই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
গোপন আস্তানায় হানা ও গ্রেফতারি
এসটিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতরা বনগাঁর একটি গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। খবর ছিল যে, তাঁরা সুযোগ বুঝে পুনরায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন। শনিবার গভীর রাতে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছেন যে:
- অনুপ্রবেশ: বাংলাদেশে হাদিকে হত্যার পর তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।
- গতিবিধি: মেঘালয় থেকে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন এবং বনগাঁয় গা ঢাকা দেন।
- অভিযোগ: ধৃতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তোলাবাজি ও খুনের একাধিক মামলা রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সি তরুণ নেতা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল দুষ্কৃতী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলায় ব্যাপক হিংসা ও ভাঙচুর ছড়িয়ে পড়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন বাংলাদেশ পুলিশ দাবি করেছিল যে ফয়সাল মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। যদিও তৎকালীন সময়ে বিএসএফ এবং মেঘালয় পুলিশ এই দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। কিন্তু এসটিএফ-এর এই সফল অভিযানে এটি স্পষ্ট হলো যে অভিযুক্তরা ভারতেই আত্মগোপন করেছিলেন।
আইনি পদক্ষেপ
গ্রেফতারের পর ধৃতদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছে এসটিএফ। তাঁদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

