বছরআঠারোর এক দলিত পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বম্বে আইআইটি-তে। জানা গিয়েছে, দর্শন সোলাঙ্কি নামের আত্মঘাতী ওই পড়ুয়া তাঁর বোন ও অভিভাবকদের নাকি তাঁর সঙ্গে জাতপাতের প্রশ্নে বন্ধুদের দুর্ব্যবহারের কথা জানিয়েওছিলেন। জানিয়েছিলেন, দলিত হওয়ায় সহপাঠীরা তাঁকে নাকি একঘরে করে দিয়েছিলেন! তাঁর সঙ্গে ঠিক ভাবে মিশতেন না তাঁরা। যদিও আত্মঘাতী পড়ুয়ার অভিভাবকদের থেকে এই মর্মে অভিযোগ পেয়ে বম্বে আইআইটি কর্তৃপক্ষ সটান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্যাম্পাসে জাতিগত বা বর্ণগত বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না, ফলে এরকম কিছু ঘটেনি। যদিও দর্শনের পরিবার তাদের দাবিতে অনড়।
কী জানিয়েছে দর্শন সোলাঙ্কির পরিবার? দর্শনের বোন জাহ্নবী সোলাঙ্কি জানিয়েছে– গত মাসে শেষ বারের মতো যখন দর্শন বাড়ি এসেছিল তখন সে জানিয়েছিল, ক্যাম্পাসে জাতপাতের প্রশ্নে সমস্যা আছে। সে বলে, বন্ধুরা যখন জানতে পারে সোলাঙ্কি শিডিউলডকাস্ট, তখন থেকেই তার প্রতি তাদের ব্যবহার বদলে যেতে থাকে। তার সঙ্গে কথাবার্তা বা মেলামেশা লক্ষ্যণীয় ভাবে কমিয়ে দেয় তারা। এটা মনের উপর খুবই চাপ ফেলে সোলাঙ্কির।
আইআইটি-তে এ ধরনের ঘটনা ইদানীং বারবারই ঘটছে। যেমন রোহিত ভেমুলার ঘটনা। বছর ছাব্বিশের এই পড়ুয়া হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তিনি দলিতদের অধিকার নিয়ে দাবি-দাওয়া তোলা অম্বেদকর স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাউজিং ফেসিলিটি থেকে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলনও করেছিলেন। এই নিয়ে নানা চাপানউতোর ঘটেছিল। ভেমুলা আদ্যন্ত পড়াশোনায় ডুবে-থাকা এক পড়ুয়া ছিলেন বলেই জানা গিয়েছিল। তিনি বিপ্লবী সাহিত্যের পাঠক ছিলেন। এমনিতে পড়তেন সমাজবিদ্যা। তাঁর আচরণ নিয়েও তেমন কোনও খারাপ কিছু শোনা যায়নি। খুবই সংবেদনশীল ও নিবিষ্ট পড়ুয়া ছিলেন। কিন্তু তার পরেও তাঁকে সহপাঠীর ও কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের ও দুর্নামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।
দর্শন সোলাঙ্কির এই মৃত্যুর ঘটনায় একটা অভিযোগ পুলিস নিয়েছে। সোলাঙ্কি হস্টেলের সাততলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, এই ঘটনার জেরেই অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে। তবে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। কিন্তু পড়ুয়াদেরই একটা অংশের দাবি, দর্শনকে রীতিমতো প্ররোচিত করা হয়েছিল এরকম একটি দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য।