স্বস্তির খবর: হরমুজ় প্রণালীর বাধা কাটিয়ে ভারতের পথে এলপিজি বোঝাই জাহাজ, আশার আলো দেখছে দেশ

স্বস্তির খবর: হরমুজ় প্রণালীর বাধা কাটিয়ে ভারতের পথে এলপিজি বোঝাই জাহাজ, আশার আলো দেখছে দেশ

দেশজুড়ে চলা রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটের মাঝে অবশেষে স্বস্তির ইঙ্গিত। শুক্রবার ইরানের সময় দুপুরে একটি এলপিজি বোঝাই পণ্যবাহী জাহাজ নির্বিঘ্নেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী পার করে ভারতের অভিমুখে রওনা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV) সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের পরেই এই বরফ গলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


‘বন্ধু’ ইরানের সবুজ সংকেত

শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতগামী জাহাজ চলাচলে তেহরান কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি বলেন:

“ভারত এবং ইরান অভিন্ন ভাগ্যের অংশীদার। ভারতের মানুষের কষ্ট হলে আমাদেরও খারাপ লাগে। বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ইরান। তবে ভারতের ক্ষেত্রে এই অবরোধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


মোদী-পেজ়েশকিয়ান আলোচনা ও কূটনৈতিক সাফল্য

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। যুদ্ধের জেরে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য ছিল দুটি— পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহণের পথ সচল রাখা। এই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতগামী জাহাজটি হরমুজ় পার হওয়ার ছাড়পত্র পায়।


কেন এই জাহাজ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের জ্বালানি চাহিদার এক বিশাল অংশ মেটানো হয় পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

  • জোগান ব্যাহত: ভারতের দৈনিক ১৯.১ কোটি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (SCM) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানি করা হয়। অবরোধের কারণে এর প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল।
  • বিপুল ঘাটতি: পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রতিদিনের প্রায় ৬০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ আটকে ছিল।
  • আভ্যন্তরীণ সংকট: যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি করেছে যে দেশে গ্যাসের অভাব নেই, তবুও বাস্তবে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং সাধারণ গৃহস্থের হেঁশেলে টান পড়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী ধাপ

সূত্রের খবর, একটি জাহাজ হরমুজ় পার হওয়ার পর আরও একটি এলপিজি বোঝাই জাহাজ ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জাহাজগুলি ভারতীয় বন্দরে পৌঁছালে গত কয়েক দিনের তৈরি হওয়া তীব্র অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে। তবে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের এই নিরবচ্ছিন্ন পথ বজায় রাখাই এখন সাউথ ব্লকের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.