ফেসবুক লাইভে সোনা পাপ্পুর দাবি
মঙ্গলবার একটি গাড়ির ভেতর থেকে ফেসবুক লাইভ করেন সোনা পাপ্পু। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং পুলিশের খাতায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি দাবি করেন, গত রবিবার রাতে তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। পাপ্পুর বক্তব্য, “রবিবার আমাদের বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল। আমি উপোস করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুজোয় ব্যস্ত ছিলাম। আমার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাতেও তার প্রমাণ আছে।”
সম্প্রতি এই ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্তের সঙ্গে পাপ্পুর ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা যুক্তি, “কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই অপরাধী প্রমাণ হয় না। আমি জনপ্রতিনিধি, এলাকার অনেকেই সাহায্যের জন্য আমার কাছে আসে। তাই বলে তাদের অপরাধের দায় আমার নয়।” লাইভে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনেও ছবির রাজনীতির সমালোচনা করেন।
শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা আক্রমণ
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পর সোনা পাপ্পুকে নিশানা করেছিলেন। লাইভে তার কড়া জবাব দিয়ে পাপ্পু বলেন, “শুভেন্দু দাবি করেছেন আমি নাকি বিড়ি কুড়িয়ে খাই। ওঁর জানা উচিত আমার বাবার তিনটি সোনার দোকান আছে, আমার নিজেরও ব্যবসা আছে। ওঁর দল দক্ষিণ কলকাতায় অস্তিত্বহীন বলেই আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।”
পুলিশি তদন্ত ও ধরপাকড়
গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত। মঙ্গলবার ময়দান এলাকা থেকে রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনা এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- মোট গ্রেফতার: রবিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- মামলা: রবীন্দ্র সরোবর থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে।
- আদালতের নির্দেশ: ধৃতদের মধ্যে প্রথম ১০ জনকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর লাইভ ভিডিওর বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য টেকনিক্যাল তথ্যের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

