কলকাতার শিল্পপ্রেমী ও ভ্রমণপিয়াসুদের জন্য এক টুকরো কেরালা উঠে এলো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের দরবার হলে। কেরালা পর্যটন দপ্তর এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে সর্বভারতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘Lenscape Kerala’। ভারতের ১০ জন প্রথিতযশা ট্রাভেল ও মিডিয়া ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া ১০০টি ছবির মাধ্যমে কেরালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা প্রদর্শিত হচ্ছে এই আয়োজনে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও গুরুত্ব
শুক্রবার এই বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের সচিব ও কিউরেটর ড. সায়ন ভট্টাচার্য। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি জানান, কেরালার অনন্য প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কলকাতার মানুষের সামনে তুলে ধরার এই প্রয়াস দেশীয় পর্যটন শিল্পকে আরও উৎসাহিত করবে। বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক উমা নায়ারের কিউরেশনে এবং খ্যাতনামা আলোকচিত্রী বালান মাধবনের তত্ত্বাবধানে এই প্রদর্শনীটি আয়োজিত হয়েছে।
ক্যামেরার ফ্রেমে কেরালার বৈচিত্র্য
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে কেরালার:
- সবুজে ঘেরা অরণ্য ও শান্ত ব্যাকওয়াটার।
- ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, লোক উৎসব ও আধ্যাত্মিকতা।
- বন্যপ্রাণী, উপকূলীয় জীবন এবং কৃষি সংস্কৃতির বিচিত্র রূপ।
অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রীরা জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এই অসাধারণ মুহূর্তগুলি তাঁরা লেন্সবন্দি করেছেন। অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ফটোগ্রাফারদের তালিকায় রয়েছেন এইচ সতীশ, শিবাং মেহতা, শৈবাল দাস, উমেশ গোগনা, সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, নাতাশা কার্তার হেমরাজানি, ঐশ্বর্যা শ্রীধর, অমিত পাসরিচা, মনোজ অরোরা এবং কাউন্তেয় সিনহা।
সময়সূচি ও বিশেষ মাস্টার ক্লাস
প্রদর্শনীটি ২৭ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও, ২৮ মার্চ দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত একটি বিশেষ ‘মাস্টার ক্লাস’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বালান মাধবন, মনোজ অরোরা, কাউন্তেয় সিনহা ও শৈবাল দাসের মতো অভিজ্ঞ আলোকচিত্রীরা তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।
দেশজুড়ে সাফল্যের পর কলকাতায়
দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীটি ইতিমধ্যেই ভাদোদরা, আহমেদাবাদ, মুম্বই, পুনে, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ ও সুরাটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উদ্যোক্তারা আশাবাদী যে, ‘Lenscape Kerala’ কেবল একটি চিত্র প্রদর্শনী হিসেবে নয়, বরং কেরালার জীবনযাত্রার এক জীবন্ত চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা হিসেবে কলকাতার দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেবে।

