গিরিশ পার্ক কাণ্ড: ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯, আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

গিরিশ পার্ক কাণ্ড: ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯, আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্কে অশান্তি এবং রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে ওই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৯। রবিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, ধৃতদের মধ্যে ৬ জনই তাঁদের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।


আদালতের নির্দেশ ও ধৃতদের তালিকা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ৯ জনের নাম হলো— প্রসাদ জয়সওয়াল, প্রসূন পাত্র, বিকি বেরা, গোবিন্দ কর্মকার, দীপজিৎ দাস, সানি দে, চরণজিৎ সিংহ, কৃষাণু বসু এবং রাজেশ কুমার। রবিবার ধৃতদের যখন প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয়, তখন আদালত চত্বরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠে। ধৃতদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। এমনকি জনৈক বিকি বেরার পরিবারের দাবি, তাঁদের সন্তান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না।


রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বিজেপির প্রতিবাদ

গ্রেফতারি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলির সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ দত্ত এবং নেতা সজল ঘোষের দাবি:

  • ধৃতদের মধ্যে অন্তত ৬ জন বিজেপির কর্মী, যাঁদের মধ্যে ৫ জন বরাহনগরের বাসিন্দা।
  • বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁদের কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে।
  • এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে বরাহনগর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখায় বিজেপি নেতৃত্ব।

অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। দু’পক্ষই শনিবার গভীর রাতে গিরিশ পার্ক থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।


আক্রান্ত পুলিশ ও আইনি পদক্ষেপ

শনিবারের সেই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন খোদ পুলিশ কর্মীরা।

  • আহত: বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর-সহ মোট ৮ জন পুলিশকর্মী জখম হন। তাঁদের মধ্যে ২ জন এখনও চিকিৎসাধীন।
  • মামলা: পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে। খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাশাপাশি এখানে WBMPO আইনও যুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের জনসভা চলাকালীন গিরিশ পার্কে অশান্তির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা বাসে করে যাওয়ার সময় শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিজেপি জানায়, তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের বাসে ইটবৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ভাষণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকায় অশান্তির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.