২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য আলাদা করে কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সেই প্রশ্নেরই লিখিত জবাব দিল মোদী সরকার। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে নয়াদিল্লি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,০৮৩ কোটি টাকা) বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন ও বাজেট বিতর্ক
গত কয়েক বছর ধরে চাবাহার বন্দরের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে বার্ষিক ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হতো। কিন্তু অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সাম্প্রতিক বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দের উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন তোলেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভূ-রাজনৈতিক কোনো পরিস্থিতি বা চাপ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের সিস্তান-বালোচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত এই চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল কারণগুলি হলো:
- পাকিস্তানকে এড়িয়ে বাণিজ্য: পাকিস্তানের জলপথ বা স্থলপথ ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, রাশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করে এই বন্দর।
- কৌশলগত অবস্থান: ওমান উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের বাণিজ্যিক নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ।
তবে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। চাবাহার প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। যদিও পরবর্তীতে দিল্লিকে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত ছয় মাসের বিশেষ ছাড় দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতির পরিবর্তনের ফলে যাতে এই প্রকল্পের কাজ ব্যাহত না হয়, তার জন্য সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’ এবং ইরানের বন্দর ও সমুদ্র সংস্থার মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, ভারত সেই অনুযায়ী তার আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকার অর্থ এই নয় যে ভারত এই প্রকল্প থেকে সরে আসছে। বরং বিনিয়োগের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সাউথ ব্লক।

