পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বস্তির খবর। সোমবার গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে নিরাপদে এসে পৌঁছাল ভারতের বিশালাকায় এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার জাহাজ ‘শিবালিক’। হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ জলপথ পেরিয়ে দু’দিন আগেই ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এই জাহাজটি।
আসছে ‘নন্দাদেবী’, নজরদারিতে সাউথ ব্লক
শুধু শিবালিক নয়, আরও একটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘নন্দাদেবী’ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের পথে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবার মুম্বাই বন্দরে ভিড়তে পারে এই জাহাজটি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অস্থিরতার কারণে এই দুই জাহাজের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
কূটনৈতিক তৎপরতায় মিলল ছাড়পত্র
এই জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে ভারতের অত্যন্ত সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা। জানা গিয়েছে:
- বিদেশ মন্ত্রকের ভূমিকা: ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে চার দফা আলোচনা করেছেন।
- শীর্ষ স্তরের যোগাযোগ: গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং ফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলে।
বিপুল পরিমাণ জ্বালানি গ্যাস
শিবালিক এবং নন্দাদেবী— উভয় জাহাজেই বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে সৌদি আরব থেকে একটি তেলের ট্যাঙ্কারও নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছিল।
এখনও আটকে বেশ কিছু জাহাজ
জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি। হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে এখনও ভারতের অন্তত দুই ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে রয়েছে। সেগুলিকে নিরাপদে পার করানোর জন্য দিল্লির পক্ষ থেকে নিরন্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ‘জগো প্রকাশ’ নামে আরও একটি পেট্রোলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে বলে খবর মিলেছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে যুদ্ধের প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ভারতের এই সফল নৌ-কূটনীতি আপাতত দেশের বাজারে জ্বালানি সঙ্কটের মেঘ কাটাতে সাহায্য করবে।

