ভোটের প্রশিক্ষণে সরকারি প্রকল্পের ভিডিও দেখানো এবং তার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিডিও (BDO) সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে শোকজ করার পাশাপাশি বিডিও অফিসের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই দুই কর্মীকে সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত
শুক্রবার সকালে রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবির চলছিল। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক এর প্রতিবাদ করে জানান, এটি নির্বাচনী আচরণবিধির (Model Code of Conduct) পরিপন্থী।
সৈকতবাবুর দাবি, প্রতিবাদ করতেই বিডিও-র উপস্থিতিতেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে মারধর করা হয়। যদিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাঁসখালির বিডিও।
জেলাশাসকের পদক্ষেপ ও ব্যাখ্যা
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি। প্রাথমিক তদন্তের পর তিনি জানান:
- ভুল স্বীকার: প্রজেক্টরে ভুলবশত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ও ভিডিও চলে এসেছিল বলে জেলা প্রশাসন স্বীকার করে নিয়েছে। জেলাশাসকের মতে, এই সময়ে এ ধরনের ভুলও নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল।
- কড়া ব্যবস্থা: ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিডিও অফিসের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে এবং তাঁদের সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়া চলছে।
- বিডিও-র ভূমিকা: ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চেয়ে বিডিও-কে শোকজ করা হয়েছে।
স্থগিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষক মহলে ক্ষোভ
শুক্রবারের এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আক্রান্ত শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও এই ঘটনায় জেলার শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলি অবিলম্বে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।

