শুক্রবার সন্ধ্যায় আপ হাওড়া-অমৃতসর পঞ্জাব মেলে বোমাতঙ্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। ‘রেল মদত’ পরিষেবায় আসা একটি উড়ো ফোনের জেরে ট্রেনটিকে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার চন্দনপুর স্টেশনে জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে দেওয়া হয়। রেল পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডের দীর্ঘ তল্লাশিতে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।
‘রেল মদত’-এ উড়ো ফোন
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ অমৃতসরগামী পঞ্জাব মেলটি হাওড়া থেকে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ‘রেল মদত’ (Rail Madad) পোর্টালে একটি ফোন আসে। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, ট্রেনের ভেতরে বোমা রাখা আছে। খবরটি পাওয়ামাত্রই রেল কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে এবং তড়িঘড়ি ট্রেনটিকে হুগলির চন্দনপুর স্টেশনে থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডগ স্কোয়াড ও বম্ব স্কোয়াডের তল্লাশি
চন্দনপুর স্টেশনে ট্রেনটি থামার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জিআরপি এবং আরপিএফ। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ডগ স্কোয়াড দিয়ে প্রতিটি কামরায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। হাওড়া থেকে রেলের বিশেষ বম্ব স্কোয়াডও দ্রুত চন্দনপুরে পৌঁছয়।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন,
“রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর জেলা পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।”
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি
হঠাৎ মাঝপথে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়া এবং পুলিশি তৎপরতা দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেলকর্মীরা মাইকিং করে এবং ব্যক্তিগতভাবে কামরায় কামরায় গিয়ে যাত্রীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি।
রেল সূত্রে খবর, সম্পূর্ণ তল্লাশি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবং বম্ব স্কোয়াড থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়ার পরেই ট্রেনটিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ফের রওনা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কে বা কারা এই উড়ো ফোন করে আতঙ্ক ছড়ালো, তার সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ ও সাইবার সেল।

