বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাঁকুড়া জেলার জন্য প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ঘোষিত এই তালিকায় জেলার ১২টি আসনের মধ্যে ১০টির প্রার্থীর নাম জানানো হয়েছে। তবে বাঁকুড়া সদর এবং বিষ্ণুপুর— এই দুই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম এখনও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
পুরনোদের ওপর আস্থা: ৫ বিধায়কই পুনর্মিলিত
বিগত নির্বাচনে বাঁকুড়ায় বিজেপির ফল ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পাঁচজন জয়ী বিধায়ককেই পুনরায় টিকিট দিয়েছে দল।
- শালতোড়া: চন্দনা বাউরি
- ছাতনা: সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়
- ওন্দা: অমরনাথ শাখা
- ইন্দাস: নির্মল কুমার ধারা
- সোনামুখী: দিবাকর ঘরামি
দলবদলু বনাম ভূমিপুত্র: কোতুলপুরে নতুন মুখ
কোতুলপুর আসনে এবার কৌশল বদল করেছে বিজেপি। গতবারের জয়ী প্রার্থী হরকালী প্রতিহার দলবদল করায়, তাঁর পরিবর্তে দলের পুরনো কর্মী ও পেশায় শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারকে প্রার্থী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লক্ষ্মীকান্তবাবু ২০১৪ সালেও এই কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন।
স্থানীয় আবেগ ও অভিজ্ঞতায় শান: নতুন প্রার্থীদের প্রোফাইল
বিগত কয়েকটি নির্বাচনে (২০২১ ও ২০২৪ উপ-নির্বাচন) ‘বহিরাগত’ বা ‘অ-স্থানীয়’ প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ ছিল, এবার তা প্রশমনে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
| বিধানসভা কেন্দ্র | প্রার্থীর নাম | বিশেষ পরিচয় / প্রেক্ষাপট |
| রাইপুর | ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা | পেশায় কৃষক। ২০১১ সালে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হয়ে লড়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। |
| রানীবাঁধ | ক্ষুদিরাম টুডু | স্থানীয় পরিচিত মুখ। |
| তালডাংরা | সৌভিক পাত্র | স্থানীয় বাঁশকোপার বাসিন্দা। বালি চুরি ও সেতু নির্মাণ আন্দোলনের পরিচিত মুখ। |
| বড়জোড়া | বিল্লেশ্বর সিনহা | দলের প্রবীণ ও স্থানীয় সংগঠক। |
কেন স্থগিত বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর?
বাঁকুড়া সদর আসনে গতবারের জয়ী বিধায়ক নিলাদ্রী দানাকেই আবার রাখা হবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা চলছে। অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর আসনটি নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি কেন্দ্রে সমীকরণ সাজাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে গেরুয়া শিবির।
পর্যবেক্ষণ: বিজেপির এই তালিকা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তারা এবার কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না। একদিকে যেমন জয়ী বিধায়কদের অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তালডাংরা বা রাইপুরের মতো আসনে স্থানীয় ও আন্দোলনকারী মুখকে সামনে এনে জনভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

