ভোটের আগে বড় রদবদল: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের ১৭০ থানার ওসি বদল করল কমিশন

ভোটের আগে বড় রদবদল: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের ১৭০ থানার ওসি বদল করল কমিশন

লোকসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক নজিরবিহীন নির্দেশে রাজ্যের মোট ১৭০টি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (OC) সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর, তেমনই রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ ১১ জন আধিকারিক-সহ মোট ১৮৪ জন পুলিশ কর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

ভবানীপুর ও কলকাতা পুলিশের রদবদল

কলকাতা পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।

  • ভবানীপুর: এই থানার নতুন ওসি করা হয়েছে সৌমিত্র বসুকে। তিনি আগে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এ কর্মরত ছিলেন।
  • পার্ক স্ট্রিট: পার্ক স্ট্রিট থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিরূপম নাথকে।
  • অন্যান্য থানা: আলিপুর থানায় প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, একবালপুর থানায় দিলীপ সরকার এবং হরিদেবপুর থানায় ফয়েজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্ণশ্রী, মানিকতলা, নারকেলডাঙা, লেক এবং আমহার্স্ট স্ট্রিট থানাতেও নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রামের চিত্র

রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও বড়সড় রদবদল করেছে কমিশন।

  • নন্দীগ্রাম: চন্দননগর থানায় কর্মরত শুভব্রত নাথকে নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
  • অন্যান্য থানা: নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলির ওসি-দেরও পরিবর্তন করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ ও অন্যান্য জেলা

কমিশনের নজরে রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিও।

  • শীতলকুচি: কোচবিহারের শীতলকুচি থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিষেক লামাকে। তিনি আগে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার এসআই ছিলেন।
  • উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর: দিনহাটা, মাথাভাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, চোপড়া ও ইসলামপুরের মতো থানাগুলিতেও রদবদল ঘটানো হয়েছে।
  • উচ্চপদস্থ রদবদল: আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে কর্মরত পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি (DIB) পদে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

কমিশনের কড়া বার্তা

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আদতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে যেসব এলাকা স্পর্শকাতর বা যেখানে অতীতে নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস রয়েছে, সেখানে নতুন আধিকারিকদের নিয়োগ করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চাইছে কমিশন। রবিবার রাত থেকেই এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.