উদ্বেগজনক তথ্য: পূর্ব বর্ধমানে আক্রান্ত ৯০, শুধু বর্ধমান শহরেই ৩০ জন উচ্চশিক্ষিত যুবকের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

উদ্বেগজনক তথ্য: পূর্ব বর্ধমানে আক্রান্ত ৯০, শুধু বর্ধমান শহরেই ৩০ জন উচ্চশিক্ষিত যুবকের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

পূর্ব বর্ধমান জেলায় এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় জেলা জুড়ে অন্তত ৯০ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে শুধু বর্ধমান শহরেরই ৩০ জন যুবক রয়েছেন, যাঁদের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল তথ্য

সংক্রমণের এই ভয়াবহ চিত্রটি সামনে আসে সম্প্রতি বর্ধমানের এক অসুস্থ যুবকের শারীরিক পরীক্ষার পর। দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে শরীরে এডস সৃষ্টিকারী ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর ওই যুবকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ শুরু করতেই একের পর এক সংক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে থাকে।

সংক্রমণের কারণ ও ধরন

সোমবার জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশ সমকামী এবং তাঁরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল। প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:

  • অনিরাপদ যৌন আচরণ: শিক্ষিত সমাজ হওয়া সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ও র‍্যাকেট: তদন্তকারীদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর মেলামেশার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এমনকি এই যৌন র‍্যাকেটের জাল দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ ও পদক্ষেপ

পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) জয়রাম হেমব্রম জানান, সচেতনতামূলক প্রচার সত্ত্বেও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকছেন না। বর্তমানে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ও তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তিনি জানান, জেলায় পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং বর্ধমান ও কালনা শহরে সংক্রমণের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি।

শিশু চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা এই প্রসঙ্গে বলেন, “শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও সচেতনতার অভাব উদ্বেগের বিষয়। রোগ গোপন না করে পরীক্ষা করানো জরুরি। বর্তমানে আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”


প্রশাসনের সতর্কবার্তা:

১. গোপনীয়তা: আক্রান্তদের পরিচয় গোপন রেখে পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। ২. সচেতনতা: নিরাপদ যৌন আচরণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ৩. আবেদন: কোনো উপসর্গ থাকলে বা সন্দেহ হলে দ্বিধা না করে সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.