রাজ্যে কয়লা পাচার ও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-সিবিআইয়ের সক্রিয়তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। উত্তরবঙ্গের এক জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক জেলা সফরগুলিকে ‘তদন্ত থেকে বাঁচার কৌশল’ বলে দাবি করেন তিনি।
“ইডির ভয়ে কলকাতা ছাড়া তৃণমূল নেতৃত্ব”
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে জোর দিয়েছেন। তবে এই কর্মসূচির নেপথ্যে ভিন্ন কারণ দেখছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, কলকাতায় থাকলে ইডি যেকোনো সময় তাঁকে আটক করতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
জনসভা থেকে বিজেপি সাংসদ বলেন,
“ভয় পাচ্ছেন, যদি ইডি কান ধরে তুলে নেয়। তাই ভাবছেন জেলায় জেলায় ঘুরলে বেঁচে যাবেন। কিন্তু বিজেপি কাউকেই ছাড়বে না, উপযুক্ত ‘ট্রিটমেন্ট’ বিজেপি করবেই।”
তৃণমূলের জনসভাগুলিতে ভিড় হচ্ছে না দাবি করে তিনি আরও বলেন যে, পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করেও মাঠ ভরাতে ব্যর্থ হচ্ছে শাসক দল।
‘ক্যান্সার’ মন্তব্যের পাল্টা তোপ
সম্প্রতি পুরুলিয়ার এক সভায় বিজেপিকে ‘আলসার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাবে সুকান্তবাবু বলেন,
“আসল ক্যান্সার হলো তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই ২৬ হাজার যোগ্য প্রার্থীর চাকরি কেড়ে নিয়েছে এবং রাজ্যের ৮২০০টি স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।”
রাজ্যের প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন যে, শাসক দলের অপশাসনের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আইপ্যাক অভিযান ও সুপ্রিম কোর্ট প্রসঙ্গ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বাধা দিয়েছেন এবং ফাইলপত্র নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুকান্ত মজুমদার ইঙ্গিত দেন যে, দুর্নীতির শেকড় অনেক গভীরে এবং তদন্তকারী সংস্থা পিছু ছাড়বে না।
পরিবর্তনের আশ্বাস
নির্বাচনী প্রচারে সুকান্ত মজুমদার ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষকে আর কাজের জন্য ভিন রাজ্যে যেতে হবে না। চাকরিপ্রার্থীদের রাজপথের বদলে স্কুল ও কলেজে দেখা যাবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

