সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা কেড়ে নিল আরও একটি তাজা প্রাণ। রিলস বানানোর জন্য আত্মহত্যার দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত মৃত্যু হলো ২৭ বছর বয়সী এক তরুণীর। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার বাবেরু থানা এলাকার কারুইয়া পুরবায়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত তরুণীর নাম মোহিনী। তিনি এক সন্তানের জননী এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানাতে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন মোহিনী নিজের ঘরে একা থাকাকালীন মোবাইলে একটি আত্মহত্যার দৃশ্যের ভিডিও শ্যুট করছিলেন।
ভিডিওটিকে বাস্তবসম্মত করতে তিনি সিলিংয়ের হুক থেকে একটি ফাঁস ঝুলিয়ে টুলের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন। শ্যুটিং চলাকালীন হঠাৎই পা পিছলে টুলটি সরে যায় অথবা তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গলায় ফাঁস আটকে যায় তাঁর। শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মোহিনীর।
চার বছরের মেয়ের আর্তনাদ
ঘটনার সময় মোহিনীর চার বছরের কন্যা সন্তান ঘরে ঢুকে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করে। তার আর্তনাদ শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে মোহিনীকে নিচে নামান। ততক্ষণে সব শেষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
বান্দা জেলার পুলিশ সুপার পলাশ বনশল জানিয়েছেন,
“প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে রিলস শ্যুট করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা সবকটি দিক খতিয়ে দেখছি।”
সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিক: ফিরে দেখা ‘সিকার ওয়ালি পিঙ্কি’র ঘটনা
মোহিনীর এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির বিপদকে সামনে নিয়ে এল। সম্প্রতি রাজস্থানের জয়পুরেও একই ধরনের এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। জনপ্রিয় ইউটিউবার পিঙ্কি, যিনি ‘সিকার ওয়ালি পিঙ্কি’ নামে পরিচিত ছিলেন, রিলস বানানো নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের চার সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে আত্মঘাতী হন। ফেসবুকে প্রায় ৭ হাজার ফলোয়ার থাকা এই ইনফ্লুয়েন্সারের নিথর দেহ প্রায় এক সপ্তাহ পর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জি নিউজ-এর পক্ষ থেকে সতর্কতা: সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বা রিলস বানানোর সময় কোনো বিপজ্জনক দৃশ্য অনুকরণ করবেন না। লাইক বা ভিউ-এর চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আপনার ছোট একটি ভুল পরিবারের জন্য চিরস্থায়ী শোকের কারণ হতে পারে।

