টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরের অভিষেক শর্মার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আইসিসি ক্রমতালিকায় এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে প্রতিযোগিতায় নামলেও শুরুটা হয়েছিল ‘শূন্যের হ্যাটট্রিক’ দিয়ে। টানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও কীভাবে ছন্দে ফিরলেন এই তরুণ তুর্কি? খোদ অভিষেক জানালেন, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের অটুট ভরসা এবং তাঁর দেওয়া বিশেষ মানসিক দাওয়াই।
গম্ভীরের স্পষ্টবাদিতা ও টোটকা
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক তাঁর সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। গম্ভীরের কোচিং শৈলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“গৌতি ভাই অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। তিনি কোনো কিছু লুকিয়ে রাখেন না, সবটা পরিষ্কার বলেন। আমার খারাপ ফর্মের সময় তিনি বারবার বলছিলেন বিষয়টাকে জটিল না করতে। আমি যেভাবে খেলি, ঠিক সেভাবেই যেন সাহস নিয়ে খেলা চালিয়ে যাই।”
গম্ভীর অভিষেককে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কেবল একটি ভালো ইনিংসই তাঁর ছন্দ ফিরিয়ে দেবে এবং দলকে জেতাবে। কোচের সেই ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে।
পরিসংখ্যান: বিশ্বকাপে অভিষেকের যাত্রা
| বিষয় | তথ্য |
| মোট ম্যাচ | ৮ |
| মোট রান | ১৪১ |
| ফাইনালের ইনিংস | ২১ বলে ৫২ রান |
| অর্ধশতরান (ফাইনালে) | মাত্র ১৮ বলে |
ফাইনালে অভিষেকের এই বিধ্বংসী ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। শুরুতে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও অধিনায়ক ও সতীর্থদের সমর্থন তাঁকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল বলে জানান এই ব্যাটার।
বদলে যাওয়া মানসিকতা
অভিষেক স্বীকার করেছেন যে, এই বিশ্বকাপ তাঁর ক্রিকেটীয় দর্শনেই বদল এনেছে। তাঁর মতে, ক্রিকেটে শারীরিক দক্ষতার চেয়েও মানসিক শক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ইতিবাচক থাকা জরুরি।
- মানসিক জোর: কঠিন সময় কাটানোর জন্য মানসিক দৃঢ়তা অপরিহার্য।
- অবিরাম পরিশ্রম: ভাগ্যের পাশাপাশি পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
লক্ষ্য এবার আইপিএল
বিশ্বকাপের শিক্ষা সঙ্গী করে এবার আইপিএলের মঞ্চে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত অভিষেক। গৌতম গম্ভীরের অধীনে যে ‘নতুন’ অভিষেককে বিশ্বমঞ্চে দেখা গিয়েছে, আইপিএলেও তিনি সেই বিধ্বংসী মেজাজ ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট মহল।

