বাঁকুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী নুনগোলা রোডে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাড়ম্বরের সঙ্গে সম্পন্ন হলো মোদক সমাজের কুলদেবতা গণেশের আরাধনা। প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও জেলা শহর জুড়ে এক অনন্য মৈত্রীর আবহ তৈরি হয়েছে।
ঐতিহ্যের শোভাযাত্রা ও রীতি
বৃহস্পতিবার সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। প্রাচীন প্রথা মেনে রুপোর ঘটে নতুন উৎপাদিত গুড় ভর্তি করে শহর পরিক্রমা করেন মোদক পরিবারের সদস্যরা। এই শোভাযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল মহিলা ঢাকিদের বাদ্য এবং গ্রামীণ লোকশিল্পীদের প্রাণবন্ত নৃত্য। শহর প্রদক্ষিণ শেষে মন্দিরে পৌঁছে শুরু হয় সিদ্ধিদাতার মূল পূজার্চনা ও হোম-যজ্ঞ।
তিনশো বছরের ইতিহাস
এই পূজাকে ঘিরে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস। কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে একদল সাধু বেনারস থেকে কষ্টিপাথরের একটি চার ফুট উচ্চতার গণেশ মূর্তি নিয়ে ওড়িশার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কোনো অসুবিধার কারণে তাঁরা দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে মূর্তিটি রেখে চলে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে মোদক (ময়রা) সম্প্রদায়ের মানুষজন সেই মূর্তি উদ্ধার করে নুনগোলা রোডে স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে সেখানে একটি স্থায়ী মন্দির গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে বাঁকুড়া শহরের প্রায় ৮০০টি মোদক পরিবার এই মন্দিরের পরিচালনায় যুক্ত।
প্রথা ও ধর্মীয় বিশ্বাস
মোদক সমাজের নিয়ম অনুযায়ী, এই দিনে প্রতিটি পরিবারে নতুন গুড় ভর্তি ঘট সিদ্ধিদাতার প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়। পরিবারের সদস্যরা উপবাস থেকে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং তারপরই উপবাস ভঙ্গ করার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
মোদক সমাজের সম্পাদক সোমনাথ নাগ জানান, “প্রাচীন ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষদের শিখিয়ে দেওয়া রীতিনীতি বিন্দুমাত্র পরিবর্তন না করে আজও আমরা এই পুজোর আয়োজন করে আসছি। সমাজের প্রতিটি পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই পুজোর প্রাণ।”

