মাত্র ২ নম্বরের ব্যবধান কাড়ল প্রাণ: যমজ বোনের চেয়ে পরীক্ষায় কম পেয়ে আত্মঘাতী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী

মাত্র ২ নম্বরের ব্যবধান কাড়ল প্রাণ: যমজ বোনের চেয়ে পরীক্ষায় কম পেয়ে আত্মঘাতী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী

প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে হার মানল জীবন। স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় নিজের যমজ বোনের চেয়ে মাত্র ২ নম্বর কম পাওয়ার গ্লানি সইতে না পেরে আত্মঘাতী হল ১৭ বছরের এক কিশোরী। বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার শাসপুর এলাকার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়।

ঘটনাপ্রবাহ

মৃত ছাত্রীর নাম তন্দ্রা বাগদী। সে শাসপুর ডিএনএস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের দাবি, তন্দ্রা এবং তার যমজ বোন একই স্কুলে, একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তাদের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে একটি ‘অঘোষিত প্রতিযোগিতা’ দীর্ঘদিনের। সাধারণত সব পরীক্ষায় তন্দ্রাই তার বোনের চেয়ে বেশি নম্বর পেত। কিন্তু এবারের একাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় হিসেব উল্টে যায়। দেখা যায়, তন্দ্রার বোন তার চেয়ে ২ নম্বর বেশি পেয়েছে।

চরম সিদ্ধান্ত

পরিবার সূত্রে খবর, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল তন্দ্রা। বোনের চেয়ে পিছিয়ে পড়া সে মেনে নিতে পারেনি। এই অবসাদের জেরেই দিনকয়েক আগে বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইন্দাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করেন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত রবিবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তন্দ্রার বাবার আর্তনাদ: শোকে পাথর হয়ে যাওয়া তন্দ্রার বাবা পরিতোষ বাগদী বলেন, “পরীক্ষার ফল বেরোনোর পর থেকেই ও মনমরা হয়ে ছিল। বাড়িতেই ও চরম সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারলাম না।”


বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

এই ঘটনাটি বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের ওপর পড়াশোনার মানসিক চাপ এবং প্রতিযোগিতার ভয়ঙ্কর রূপকে ফের সামনে এনে দিয়েছে। সামান্য কয়েক নম্বরের পার্থক্যে কেন একজন ছাত্রীকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সমাজ ও শিক্ষা মহলে।

বি.দ্র.: কোনো মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। জীবন যে কোনো পরীক্ষার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.