আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা পর্যালোচনা করে প্রতি দফায় রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক
বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন কমিশনের শীর্ষকর্তারা। বৈঠকে জেলাভিত্তিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিশন উদ্বিগ্ন।
নিরাপত্তা কৌশলের মূল দিকগুলি:
- সীমান্তবর্তী এলাকা: কড়া নজরদারি ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন।
- রুট মার্চ ও কিউআরটি: ভোটারদের আস্থা ফেরাতে বাহিনীর নিয়মিত রুট মার্চ এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) গঠন।
- স্ট্যাটিক ডিউটি: বুথ সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ীভাবে বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল
নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ সামলাতে এবার বিশেষ পরিকাঠামো গড়ছে কমিশন। সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, সাধারণত ভোটের সময় ১.৫ থেকে ২ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়ে। এই জট কাটাতে:
- সচিব পর্যায়ের আধিকারিক নিয়োগ: অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখতে সচিব পদমর্যাদার অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- দ্রুত নিষ্পত্তি: অভিযোগ পাওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
- টিম গঠন: মোট ৯ জন আধিকারিক এই সেলে থাকবেন, যার মধ্যে ৬ জন মাইক্রো অবজার্ভার। অতিরিক্ত ৩-৪ জন অফিসার নবান্নের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে।
ফেরত আসা ২০ হাজার ভোটার কার্ড নিয়ে তদন্ত
কমিশনের কাছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ২০ হাজার ভোটার কার্ড ডাকবিভাগের মাধ্যমে বিলি করতে গিয়েও প্রাপক না পাওয়ায় ফেরত এসেছে। পোস্ট অফিস তিনবার চেষ্টা করেও এই কার্ডগুলি হস্তান্তর করতে পারেনি।
কমিশনের পদক্ষেপ: কেন এত বিপুল সংখ্যক কার্ড বিলি করা গেল না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডগুলি বুথ অনুযায়ী আলাদা করে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের মাধ্যমে ভোটারদের বর্তমান অবস্থান যাচাই করা হবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো পরিস্থিতিতেই আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপস করা হবে না।

