আইপ্যাক মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাজ্য, ‘মৌলিক অধিকার’ নিয়ে জোর সওয়াল

আইপ্যাক মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাজ্য, ‘মৌলিক অধিকার’ নিয়ে জোর সওয়াল

আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র সুপ্রিম কোর্টে আসার আইনি বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবীরা দাবি করেন, একটি সরকারি সংস্থা হিসেবে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মৌলিক অধিকার’ লঙ্ঘনের দাবি করতে পারে না।

রাজ্যের তোলা প্রধান তিনটি আইনি প্রশ্ন

শুনানি চলাকালীন রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন:

  1. ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ: সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কি ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারে? মৌলিক অধিকার কি কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নাকি শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে?
  2. স্বার্থের সংঘাত: কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিভাগ হয়ে ইডি কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই এই মামলায় ‘পক্ষ’ (পার্টি) করে মামলা লড়ছে?
  3. তদন্তকারী সংস্থার সীমাবদ্ধতা: সিবিআই বা সিআইডির মতো ইডি-র কাজ তদন্ত করা; পিএমএলএ (PMLA) আইনে তাদের মামলা করার বা সিবিআই তদন্ত চাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে কি?

‘মৌলিক অধিকার ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠানের নয়’

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়ালে বলেন, “মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে উঠতে পারে। ইডি এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় সরকার কি কোনো রাজ্যের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলতে পারে?” তিনি আরও জানান, যদি কোনো ডিরেক্টরেটকে সরাসরি এভাবে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সংবিধানের ১৩১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য’ (Checks and Balances) নষ্ট হয়ে যাবে।

কপিল সিব্বলের পর্যবেক্ষণ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে প্রশ্ন তোলেন, “ইডি আসলে চাইছে আদালত যেন সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইডি নিজে থেকে এমন দাবি করতে পারে না। এমনকি যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে আধিকারিকরা হুমকির মুখে পড়েছেন, তাতেও কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় না।”


বিচারপতির উদ্বেগ ও আগামীর প্রশ্ন

রাজ্যের সওয়াল শুনে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো তদন্ত চলাকালীন কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে ঢুকে পড়েন, তবে ইডি কী করবে? এটি একেবারেই অনভিপ্রেত ঘটনা। যদি ৩২ বা ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই পিটিশন গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার বিচার কে করবে?”

মামলার প্রেক্ষাপট

গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্রে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের (I-PAC) দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে নথিপত্র এবং ল্যাপটপ সরিয়ে নিয়ে আসেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

পরবর্তী পদক্ষেপ: আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওইদিন ইডি-র পক্ষ থেকে রাজ্যের এই আইনি যুক্তিগুলোর পাল্টা জবাব দেওয়া হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.