Suvendu, BJP, মুরুগন-কাণ্ডে জল ঘোলা, কমিশনের চিঠির পর কটাক্ষ শুভেন্দুর

“এখনই বেছে নেওয়ার সময়: সংবিধানের সেবা করবেন, নাকি সিন্ডিকেটের সেবা করে যাবেন?” নির্বাচন কমিশনের কড়া চিঠি জারির পর রবিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের প্রধান রাজীব কুমারকে এই বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এসআইআর পর্বে আইএএস অফিসার সি মুরুগন সম্প্রতি হেনস্থা হয়েছেন। অভিযুক্ত রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। এটা নিয়ে দিল্লির নির্বাচন কমিশন শনিবার কড়া চিঠি দিয়েছে রাজ্যকে। রবিবার শুভেন্দুবাবু লিখেছেন, “মিঃ ডিজিপি (ইনচার্জ) রাজীব কুমার, ভারতের নির্বাচন কমিশন আপনাকে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাটে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক সি. মুরুগান (আইএএস)-এর উপর তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জনতার হামলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পষ্ট ব্যর্থতা দেখা গিয়েছে। বিষয়টির উপর মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, বিকেল ৫টার মধ্যে একটি পদক্ষেপ করার প্রতিবেদন (এটিআর) জমা দিতে বলেছে ইসি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্রের অধীনে ‘আইনশৃঙ্খলার’ কী লজ্জাজনক প্রদর্শন। নির্বাচন কমিশন এটিকে ‘গুরুতর ত্রুটি’ বলেছে। আমরা এটিকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা বলছি।

কিন্তু এখানেই কথা? মিঃ ডিজিপি (ইনচার্জ), যদি আপনার হাত রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে বাঁধা থাকে, আপনি কীভাবে সেই এটিআর শুরু করবেন তা নিয়ে যদি গভীরভাবে ভাবেন, তাহলে আমি আপনার পিছনে আছি।

সংযুক্ত ভিডিওগুলির স্পষ্ট ফুটেজ দেখুন। এগুলোয় মাগরাহাট এবং কুলপিতে সেই উন্মত্ত জনতাকে একত্রিত এবং উসকানি দিতে সাহায্যকারী অপরাধী এবং মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চেনা যাচ্ছে। আপনি কি অবশেষে মেরুদণ্ড শক্ত করতে পারবেন? এই টিএমসি গুন্ডাদের বিচারের আওতায় আনতে এফআইআর দায়ের করবেন?”

এর আগে শনিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্রর লেখা চিঠিতে জানানো হয়েছে, “গত ২৮ ডিসেম্বর কমিশন লিখিতভাবে জানিয়েছিল, ২০০৫ ব্যাচের আইএএস সি মুরুগানকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতার রোল অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। ৩০ তারিখে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ডহারবার মহকুমার মগরাহাট-১ ও মগরাহাট-২ এবং কুলপি ব্লকে শুনানীকালীন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তিনি একগুচ্ছ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের পৃথক রিপোর্টেও এই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

এই সফরের ব্যাপারে আগাম জানানো সত্ত্বেও জেলার পুলিশ সুপার এবং মহকুমা অফিসার রোল অবজার্ভারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ। ফলে রোল অবজার্ভারকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছে। জমায়েত, শ্লোগান, আধিকারিকের গাড়ির ওপর আক্রমণ প্রভৃতি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয়, উচ্ছৃঙ্খল, উত্তেজিত অভিযুক্তর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পুলিশের কাছে বারবার বলতে হয়েছে।

কমিশন গোটা ব্যবস্থায় এগুলোকে নিরাপত্তায় গুরুতর গাফিলতি বলে মনে করছে। এ ব্যাপারে কী, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে কী ব্যবস্থা হয়েছে, তার বিশদ রিপোর্ট (এটিআর) আগামী মঙ্গলবারের বিকেল পাঁচটার মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে।

কমিশন কড়াভাবে জানিয়েছে, এর পর থেকে কোনও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ক্ষেত্রসমীক্ষায় গেলে যেন তাঁর যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়। তাঁর যথেষ্ঠ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা যেন পর্যাপ্ত পুলিশ নিয়ে অকুস্থলে থাকেন। এসআইআর এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তার ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা রাখতে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

রবিবার শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্সবার্তা রাজ্য পুলিশের ডিজি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র দফতর, নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের সিইও দফতর প্রমুখের এক্স হ্যান্ডলের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.