স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছিল না। দরকার ছিল এক দিনের ছুটি। আর সেই ছুটি পেতেই স্কুলের ইমেল আইডিতে বোমাতঙ্কের ভুয়ো বার্তা পাঠাল এক কিশোরী। দিল্লির লোধি রোডের এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুলের এই ঘটনায় দু’দিনের তদন্তে ইমেল প্রেরককে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, স্কুল এক দিন বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যেই ওই ছাত্রী বোমা রাখার মিথ্যা খবর ছড়িয়েছিল। তার বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার স্কুলের ইমেল আইডিতে একটি বার্তা পাঠানো হয়। ইমেলের ‘সাবজেক্ট’ লাইনে লেখা ছিল, ‘আপনাদের বিল্ডিংয়ে বোমা রাখা আছে’। বোমাতঙ্কের খবর পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খালি করে দেওয়া হয় স্কুলবাড়ি। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও। এরপর স্কুল চত্বরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনও বোমা বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়, বোমা রাখার খবরটি ভুয়ো।
গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লির একাধিক স্কুলে একই ধরনের ভুয়ো বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। এই বার্তাগুলির পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে লোধি রোডের স্কুলে পাঠানো ইমেলটিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখে পুলিশ। তদন্তের দায়িত্ব নেয় দিল্লি পুলিশের সাইবার শাখা। ইমেলের প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের পাশাপাশি যাবতীয় ডিজিটাল নথি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই দু’দিনের মধ্যে ইমেল প্রেরককে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা।
শনিবার পুলিশ জানায়, ওই ভুয়ো ইমেল পাঠিয়েছিল স্কুলেরই এক ছাত্রী। তদন্তকারীদের দাবি, স্কুলে যেতে না চাওয়ায় এক দিনের ছুটি পাওয়ার উদ্দেশ্যে স্কুল বন্ধ করানোর পরিকল্পনা করেছিল সে। সেই কারণেই বোমা রাখার মিথ্যা বার্তা পাঠায়।
তবে এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগেও ওই কিশোরী একই ধরনের কাজ করেছে কি না, অন্য কোথাও বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে ইমেল পাঠিয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। দিল্লির অন্যান্য স্কুলে সাম্প্রতিক বোমাতঙ্কের ঘটনাগুলির সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরীর বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

