বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করতেই সাফল্য পেল পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকিং চালিয়ে ১৮ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা নগদ এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শহরের চার প্রান্তে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা
নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াড (FS) এবং স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিমের (SST) তৎপরতায় কলকাতার অন্তত চারটি জায়গা থেকে বান্ডিল বান্ডিল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
- পার্ক স্ট্রিট: শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ পার্ক স্ট্রিট ক্রসিংয়ে একটি গাড়ি থেকে ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ ও এসএসটি।
- জোকা: জোকা ট্রাম ডিপোর কাছে একটি সাদা রঙের গাড়ি থেকে ৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়িতে থাকা ৫ জন আরোহীর কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার ১০টি বান্ডিল উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।
- তারাতলা: শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ তারাতলা রোডের নেচার পার্কের সামনে নাকা চেকিং চলাকালীন একটি গাড়ি থেকে ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে ফ্লাইং স্কোয়াড।
- গার্ডেনরিচ: শনিবার সকালে গার্ডেনরিচ ক্রসিংয়ের কাছে একটি গাড়ি তল্লাশি করে ২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। খয়েরি রঙের একটি প্যাকেটে এই টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত টাকাগুলির উৎস বা গন্তব্য সম্পর্কে গাড়ির চালক বা আরোহীরা কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি।
বিছানার তলায় মিলল পিস্তল, গ্রেফতার যুবক
নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি শহর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ মানিকতলার একটি বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশি চালানোর সময় আসগার আলি মোল্লা নামে এক যুবকের শোওয়ার ঘরের বিছানার তলা থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার হয়।
অস্ত্রের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় আসগার আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোটের আগে শহরে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নজরদারিতে লালবাজার
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শহরজুড়ে নাকা চেকিং ও ফ্লাইং স্কোয়াডের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটের বছরে এখনও পর্যন্ত শহর থেকে মোট ১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই চক্রের পেছনে বড় কোনো মাথা কাজ করছে কি না, তা জানতে তদন্ত জারি রয়েছে।

