বিলাসবহুল সুপারফুড নয়, ঘরোয়া খাবার ও সময়নিষ্ঠাতেই ফিট ৫০ পেরোনো অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়

বিলাসবহুল সুপারফুড নয়, ঘরোয়া খাবার ও সময়নিষ্ঠাতেই ফিট ৫০ পেরোনো অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়

ফিট ও তন্দুরস্ত থাকতে গেলে প্রিয় খাবার তালিকা থেকে ছাঁটাই করতে হবে—এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করেছেন তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তলপতি বিজয় (৫২)। জনপ্রিয় সুপারস্টার তথা তামিঝাগা ভেট্রি কড়গম (টিভিকে)-এর সভাপতি বিজয়ের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া উপাদানে সমৃদ্ধ।

বিজয় তলপতির ফিটনেস প্রশিক্ষক নরেশ কুমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিনেতার সুস্বাস্থ্যের মূল স্তম্ভ তিনটি—সুষম ঘরোয়া খাবার, পরিমিত আহার এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা।

সহজ-সরল খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিতি বোধ

প্রশিক্ষক জানান, ৫২ বছর বয়সেও বিজয়ের খাদ্যতালিকায় কোনো দামি বা কেতাদুরস্ত ‘সুপারফুড’ থাকে না। বরং তাঁর দৈনন্দিন পাতে স্থান পায় সাধারণ ইডলি, ডিম, ভাত, সবজি, মাছ ও মাংস। এমনকি মটন বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসেন তিনি; বিশেষ করে রাস্তার ধারের সাধারণ দোকানের প্রস্তুত করা বিরিয়ানি বিজয়ের অত্যন্ত প্রিয়। পাশাপাশি মায়ের হাতের তৈরি দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পদ ‘সাক্কারাই পোঙ্গল’ খেতেও তিনি পছন্দ করেন। তবে পছন্দের খাবার খেলেও তাঁর ফিটনেস বজায় থাকার মূল কারণ হলো কঠোর পরিমিতিবোধ বা অংশ নিয়ন্ত্রণ (portion control)।

বিজয়ের দৈনন্দিন রুটিন ও আহারের সময়সূচি:

  • প্রাতঃভ্রমণ ও ঘুম থেকে ওঠা: বিজয় প্রতিদিন সকাল ৫:৩০ থেকে ৬:০০টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন।
  • প্রাতরাশ (সকাল ৯:০০): সাধারণত দুইটি ইডলি ও ডিম দিয়ে সকালের খাবার সম্পন্ন করেন, যা থেকে প্রোটিনের সঠিক জোগান পাওয়া যায়। সিনেমার বিশেষ প্রস্তুতির সময় তাঁর প্রাতরাশে বিভিন্ন ধরনের সবজিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • মধ্যাহ্নভোজ (দুপুর ১:০০): ভাত, পর্যাপ্ত পরিমাণের প্রোটিন (মাছ বা মাংস), টাটকা সবজি এবং ফল দিয়ে দুপুরের আহার গ্রহণ করেন।
  • নৈশভোজ (সন্ধ্যা ৭:০০ – ৭:৩০): রাতে খুব হালকা খাবার খান এবং তা সন্ধ্যার পরপরই সেরে ফেলেন।

ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি বিজয়ের সুস্থতার পেছনে রয়েছে নিয়মিত শারীরচর্চা। প্রতিদিন জিমে অন্তত এক ঘণ্টা সময় কাটানোর অভ্যাস রয়েছে তাঁর। তবে দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে জিমে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পেলে তিনি হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করার মতো বিকল্প উপায়ে নিজেকে সারাদিন শারীরিক দিক থেকে সক্রিয় রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.