নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আজ, শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবারই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগেই এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হলেও, সশরীরে রাজপথে নেমে এটিই সিজেপি-র প্রথম আন্দোলন হতে চলেছে।
অনুমতি না মিললেও অনড় আন্দোলনকারীরা
দিল্লি পুলিশ সূত্রে সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে জানানো হয়েছে যে, যন্তরমন্তরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য এখনো পর্যন্ত আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির আবেদন জমা পড়েনি।
এই বিষয়ে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দেশে ফেরার পরই তাঁরা পুলিশের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন জানাবেন। তিনি বলেন:
“দীপকেজি বিমানবন্দরে নামলে আমরা তাঁকে নিয়েই থানায় যাব এবং কর্মসূচির অনুমতি চাইব। আশা করি পুলিশ আমাদের অনুমতি দেবে।”
তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দিল্লি পুলিশের অনুমতি মিলুক বা না মিলুক, পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি তাঁরা পালন করবেনই।
নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ও ‘সিজেপি’-র আত্মপ্রকাশ
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ (ককরোচ) এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনো পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার (RTI) কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সকলকে আক্রমণ করেন।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং এটিকে ব্যঙ্গ করেই গত ১৬ মে ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা একটি ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নেটমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই সংগঠনটি।
“আর কত দিন ভয়ে থাকব?” সরব অভিজিৎ
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ুয়া ও যুবসমাজের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন:
“এখন সময় এসেছে আমাদের সকলকে ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে একত্রিত হওয়ার। শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ তুলতে হবে।”
আন্দোলনে নামার কারণে নিজের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা যোগ করেন, “আমরা আর কত দিন ভয়ে থাকব? এই দেশ কোনো এক দলের নয়। দেশ আমাদের সকলের।”
দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা নিয়ে চলা বিতর্কের আবহে আজ দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপি-র এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

