চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ মর্মে কে এবং কার নির্দেশে ঘোষণা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই রহস্যের জট পাকাতেই ধৃত দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে তাঁদের কণ্ঠস্বরের নমুনাও সংগ্রহ করা হতে পারে।
ঘোষণা ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওয় দর্শনার্থীদের মধ্যে হড়োহুড়ির সময় ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ার’ ওই ঘোষণা শোনা গেলেও, পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বা নির্দেশদাতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বিপর্যয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সেন্টুকে আগেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত কালিয়াকেও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, চোরবাগানের পুজোয় ঘোষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন সেন্টুই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে চাইছে, হড়োহুড়ি শুরু হওয়ার ঠিক আগে না কি পরে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সময় পুজো কমিটির পক্ষ থেকে ঠিক কী বলা হচ্ছিল। গলার স্বর নিশ্চিত করতে ও ঘোষণার সত্যতা যাচাই করতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ধৃতদের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের গঠিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দলও (সিট) কাজ করছে। ইতিমধ্যে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুমতি দিয়েছিলেন।
উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতেই প্রতিমা নিরঞ্জন তদন্তের অংশ হিসেবে মণ্ডপ সংরক্ষিত রাখার কথা বললেও, শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের উদ্যোগেই নিমতলা ঘাটে চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়। প্রতিমা বের করার প্রক্রিয়ায় পুজো কমিটির কোনো কর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। পুলিশ এবং সিমলা ব্যায়াম সমিতির এক কর্মকর্তার সহায়তায় ৩৬ জন মিলে প্রতিমা মণ্ডপ থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। লরিতে তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর লোহার কার্টে চাপিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে কঠোর পুলিশি পাহারায় প্রতিমা নিমতলা ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তা বিসর্জন দেওয়া হয়।

