আসন্ন নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তপ্ত। অবশ্য তাপ যে আগুন ঝরাবে সে ইঙ্গিতও ভাসছে হাওয়ায়। উঠেছিলাম সেলিম শেখের অ্যাপ ক‍্যাবে। কথায় কথায় সেলিম বললেন, “আব্বাসভাইজান মমতার সঙ্গেই আছে। আলাদা দল পাকাচ্ছে ফুরফুরার জন্য”। অর্থাৎ ফুরফুরা শরীফের হয়ে দর কষাকষি করার ক্ষমতা বাড়াতেই আব্বাস সিদ্দিকির আলাদা রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা। এ রাজ্যের হাওয়ার গতিপ্রকৃতি যাঁরা জানেন, তাঁরা বুঝবেন ট্যাক্সিম্যান সেলিম ঠিক বলেছে। মমতা ও আব্বাস সিদ্দিকির মধ্যে আদতে বিরোধ নেই। গোটাটাই ফুরফুরা আর কালীঘাটের মধ্যে ক্ষমতাসংক্রান্ত একটি উইন-উইন ডিল। আরও একটু জানার চেষ্টা করলাম— ‘আর কাকা ত্বহা? তাঁর সঙ্গে ভাইপোর সম্পর্ক কেমন?’ হাসল।‌ বলল, “ঘরের ব‍্যাপার, বুঝলেন কি না?” পশ্চিমবঙ্গের মাটির গন্ধ যাঁরা চেনেন, আর ইসলামিক রাজনীতির ধারা যাঁরা বোঝেন, তাঁরা জানেন সেলিম শেখ ঠিক বলেছে।

আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক‍্যুলার ফ্রন্টকে সাধারন মানুষের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী হিসেবে তুলে ধরার আদত উদ্দেশ্য ভিন্ন। এবং এই তুলে ধরার পিছনে সিপিএম-কংগ্রেসের পরোক্ষ এক স্বার্থসিদ্ধির গল্প লুকিয়ে আছে। দেখা যাক তথ্য থেকে। সিপিএম তাদের প্রার্থী তালিকার প্রথম ভাগ প্রকাশ করলেও তাতে ২১০ নং বিধানসভা কেন্দ্রে, অর্থাৎ নন্দীগ্রামে কোনো প্রার্থী তারা দেয় নি, বরং আসনটি ছেড়ে রেখেছে। কিন্তু কেন? তবে কি সিপিএমের জোট সঙ্গী ইন্ডিয়ান সেক‍্যুলার ফ্রন্ট সেখানে হেভিওয়েট কোনো প্রার্থীকে মমতার বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে? আব্বাস নিজেই কি দাঁড়াবেন নন্দীগ্রামে মমতার বিরুদ্ধে? নাকি সিপিএম-কং-আইএসএফ জোট সেখানে দুর্বল কোনো প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে সহজ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই? মমতার সঙ্গে তীব্র বিরোধিতা থাকলে আব্বাস-বিমান-অধীররা মমতার সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন কেন? কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা ঘটেছে, তাতে আব্বাস-বিমান-অধীর জোট মমতার সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেই মনে হচ্ছে। ক্যাব ড্রাইভার সেলিমের কথার সম্ভাব্য সত্যতা প্রকটতর হচ্ছে কি? পরবর্তী ঘটনাক্রমের দিকে ধারাবাহিক ও তীক্ষ্ণ নজরদারি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট ও তৃণমূলের মধ্যে প্রচ্ছন্ন বোঝাপড়ার চিত্রটি।

আসা যাক মঙ্গলকোট আসনটিতে। ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে ঐ আসনে জিতেছিলেন তৃণমূলের সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।‌ আর সিদ্দিকুল্লার চেয়ে হাজার দশেক ভোট মাত্র কম পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সিপিএমের শাহজাহান চৌধুরী। এবছর সিপিএম মঙ্গলকোটে প্রার্থী দেয় নি। ধরে নেওয়া যেতে পারে আব্বাস সেই আসনে মুসলমান প্রার্থী দেবেন। হয়ত শাহজাহান চৌধুরীই এবার দাঁড়াবেন আইএসএফের ব্যানারে। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র। তৃণমূলের হয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবার মঙ্গলকোট থেকে দাঁড়াতে চাইলেন না কেন? তাঁর আপত্তি গ্রাহ্য করে মমতা তাঁকে এবার দাঁড় করালেন মন্তেশ্বর থেকে। কিন্তু মঙ্গলকোট সিদ্দিকুল্লার জয়ের আসন। সেখান থেকে সরে আসতে চাওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ কি হতে পারে? অনুমান করা যায় যে মেরুকরণের রাজনীতিতে দু’জন শক্তিশালী মুসলমান প্রার্থী হয়ত পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চান নি, কারণ তাতে একজনকে অন্ততঃ হারতেই হবে। মঙ্গলকোটে আব্বাস যদি মুসলিম প্রার্থী দেন, তাহলে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কি সেই প্রার্থীর ভোট কাটতে চাইলেন না? বরং মঙ্গলকোটের প্রার্থী এবং সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দু’জনেই দু’জায়গায় অমুসলিম প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলেন? একটা বোঝাপড়ার আভাস স্পষ্ট। এবং বোঝাপড়া কেবল বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে আব্বাস সিদ্দিকির নয়। বোঝাপড়া বাম-কংগ্রেস-আব্বাস জোটের সঙ্গে মমতারও। ছক সেইরকমই প্রতীত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতার প্রকাশ্য সমালোচনা আব্বাস শুরু করেন ২০১৯ সাল থেকেই। মনে হতে থাকে তৃণমূলের ফুরফুরা-লবিও বুঝিবা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। তারপর নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যখন পা রাখে এআইএমআইএম, তখন তা উদ্বিগ্ন করে তোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ১লা ডিসেম্বর রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’তে তিনি ডাকেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকিকে। ধুরন্ধর ইসলামিক ধর্মগুরু এই বৈঠকেই খেলেছিলেন তাঁর আস্তিনে রাখা ‘আব্বাস-তাস’। আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে পশ্চিমবঙ্গ-রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কাজে ত্বহার সাহায্য মুখ্যমন্ত্রী চাইবামাত্রই ত্বহা বুঝে নিতে চাইলেন ফুরফুরার পাওনা। বললেন, আব্বাস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজস্ব দল গঠনের আর আব্বাসকে ঠেকাতে হলে এবং তৃণমূল সরকারকে বাঁচাতে হলে ২০২১সালের নির্বাচনে তৃনমূলের ব্যানারে অন্ততঃ ৮০জন মুসলিম প্রার্থী চাই। ধুরন্ধর মুসলিম উলেমা সুযোগ পাওয়া মাত্র হিন্দু হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বিধানসভা আসন মুসলমানের দখলে আনার ‘কাজ’ হাসিলের জন্য আব্বাস-জুজু দেখিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যে তাস ত্বহা খেলেছিলেন ২০২০’র ১লা ডিসেম্বর, নীরবে সে খেলার সলতে পাকানো চলছিল দীর্ঘ কাল যাবৎ। আব্বাসের মুখে প্রকাশ্যে মমতার সমালোচনাও সেই সলতে পাকানোর অঙ্গ ছিল বলে আন্দাজ করা যায়। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে মুসলিমদের জন্য আরও বেশি আসন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আব্বাসের সাথে বিবাদকে অজুহাত করে নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনামাফিকই আব্বাস-তাস খেলেছিলেন ত্বহা। ট্যাক্সিম্যান সেলিমের কথা স্মর্তব্য। “ঘরের ব্যাপার, বুঝলেন না”?

মুসলিম তোষনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন যে আগামী নির্বাচনে ৮০জন মুসলিম প্রার্থীকে তৃণমূলের ব্যানারে দাঁড় করালে তাঁর তোষণকারী ভাবমূর্তিকে প্রচারের নিশানায় আনতে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির বড় সুবিধা হবে এবং প্রধান প্রতিপক্ষের এমন সুবিধে করে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু এতকাল ধরে ফুরফুরা শরীফের ঘাড়ে চড়ে ভোটে জেতা মমতার পক্ষে ফুরফুরাকে ঝেড়ে ফেলাও ততোধিক অসম্ভব। অতএব কষার প্রয়োজন ছিল বিকল্প একটি ছক। সেই ছকটি কি তা আন্দাজ করা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর। প্রকাশিত প্রথম প্রার্থী তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেখেছেন ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী। অন্যদিকে আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ঘোষণা করেছে কমপক্ষে ৪৪ জন প্রার্থী তারা দেবে। হিসেব মিলে গেল। সাপও মরল, লাঠিও ভাঙ্গল না। ত্বহার খেলা আব্বাস-তাসটিকেই স্বীকৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্বহার সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া যদি এমন হয়ে থাকে যে কিছু মুসলিম প্রার্থী দাঁড়াবেন তৃণমূলের ব্যানারে, আর বাকিরা আব্বাসের ব্যানারে, তবে খুব অস্বাভাবিক লাগছে কি? এমন বোঝাপড়ায় লাভ হল ফুরফুরা ও কালীঘাট উভয়পক্ষেরই। ত্বহার লাভ শিয়াসতি, আর মমতার লাভ ভাবমূর্তিগত। ত্বহা চেয়েছিলেন তৃণমূলের ব্যানারে ৮০ জন মুসলিম প্রার্থী আর বর্তমানে পেতে চলেছেন তৃণমূল ও আইএসএফ মিলিয়ে আনুমানিক ৪৭+৪৪=৯১ জন। অর্থাৎ ত্বহা যা চেয়েছিলেন ফুরফুরা পেতে চলেছে তার চেয়ে কিছু বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় এবং বাম-কংগ্রেসের সহযোগিতায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুনাফাটি ভাবমূর্তিগত। ত্বহার চাহিদা মত তৃণমূলের ব্যানারে ৮০ জন মুসলিম প্রার্থী না দিয়ে মমতা দেখাতে‌ চাইছেন যে নির্বাচনে জেতার জন্য ফুরফুরার সাম্প্রদায়িক দাবীর সামনে মাথা তিনি নোয়ান নি।‌ নিজের মুসলিম-তোষণকারী অপবাদ ঘোচানোর প্রয়াস হিসেবে এই কায়দা কাজে আসবে বলে মনে করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।

কেউ তর্ক করতে পারেন যে আব্বাস সিদ্দিকির ৪৪ জন এবং তৃনমূলের ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী যে ওভারল্যাপ করবে না তার নিশ্চয়তা নেই। সেক‍্যুলার ফ্রন্ট সেইসব আসনে তাদের মুসলিম প্রার্থী দিতে পারে যেখানে হয়ত মমতাও তৃণমূলের মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। বাস্তবে যদি এমন হয়, তবে এই যুক্তি অকাট্য। কিন্তু এটিই পূর্ণ চিত্র নয়। মঙ্গলকোটের উপরোক্ত উদাহরণ স্মর্তব্য। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তাঁর জেতা আসন ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেন কেন, সে প্রশ্নের গ্রহনযোগ্য উত্তর যতক্ষণ না পাওয়া যাবে, ততক্ষণ এমন সন্দেহ রয়েই যাবে যে আব্বাস সিদ্দিকির আসন সমঝোতা কেবল বাম-কংগ্রসের সঙ্গে হয়নি, তৃণমূলের সঙ্গেও হয়েছে। অর্থাৎ পরোক্ষে একটি অদৃশ্য জোট তৈরি হয়ে গিয়েছে আব্বাস-বাম-অধীর-মমতার মধ্যে। আরও দ্রষ্টব্য, সিপিএম ইতিমধ্যে খড়গপুর, সাগর ও পাশকুড়া পূর্ব থেকেও তিনজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। সিপিএমের এই তিনজন প্রার্থী ইন্ডিয়ান সেক‍্যুলার ফ্রন্টের ৪৪ জন মুসলিম প্রার্থীর অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে, কংগ্রেসও মাঠে নামাতে পারে আইএসএফের ৪৪জন প্রার্থী ছাড়াও অন্য মুসলমান প্রার্থীদের। এমন হওয়া স্বাভাবিক কারণ কংগ্রেস ও সিপিএমও জেতে মূলতঃ মুসলমান-ভোটে। অতএব বাস্তবে তৃনমূল, সিপিএম, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেক‍্যুলার ফ্রন্ট একসাথে মিলে প্রায় ৮০/৯০ জন মুসলিম প্রার্থীকে নির্বাচনের ময়দানে নামাচ্ছে যা পশ্চিমবঙ্গের মোট আসনের ৩০% এর চেয়ে কম নয়। ফুরফুরার উলেমারা এভাবেই হিন্দু স্বদেশে ‘সিয়াসতি লাভ’ করতে চাইছেন। আসল হিসেবটি স্পষ্ট। ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৯১ টি আসন হল পশ্চিমবঙ্গের মোট বিধানসভা কেন্দ্রের এক তৃতীয়াংশ। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার ৩০-৩১% মুসলিম বলে কি হিন্দু হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের এক তৃতীয়াংশ বিধানসভা আসনের দখলও নিতে চাইছে মুসলিমরা?

যেসব তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল ও যেসব অমুসলমান নামধারী লোক হিন্দু হোমল্যান্ডের বুকে মুসলমানদের স্বপ্ন সফল করতে উঠে পড়ে লেগেছে, নিজেদের মধ্যে এতকালের আকচাআকচি ভুলে যে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মিলে মরিয়া হয়ে জড়ো হয়েছে ফুরফুরার উঠোনে— শুধুমাত্র হিন্দু বাঙালীর কাছ থেকে তাদের একটুকরো রাজ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য এবং তাঁদের মনে উস্কে দিতে চাইছে দেশভাগের স্মৃতি— সেই দলগুলোর, সেই লোকগুলোর সব হিসাব উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা ও দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গের জনগণেশের। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে— আগামী নির্বাচনে সে দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুসলিম-তোষামোদের রাজনীতি, বামেদের ধূর্ত, হিন্দুবিদ্বেষী রাজনীতি আর কংগ্রেসের সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট জনমত নির্বাচনে প্রতিফলিত হওয়া স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। নির্বাচনের ময়দানে প্রকৃত বহিরাগতদের চিহ্নিত করবেন তাঁরা, পশ্চিমবঙ্গ আদতেই যাঁদের হোমল্যান্ড।

https://www.newsbred.com/article/how-muslim-dice-is-rolled-by-these-seculars-to-snatch-hindu-s-homeland-in-bengal

দেবযানী ভট্টাচার্য্য
Debjani Bhattacharyya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.