উর্দির সম্মান নিয়ে খেলা আর নয়: ২০২৬-এ অপশাসনের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে

উর্দির সম্মান নিয়ে খেলা আর নয়: ২০২৬-এ অপশাসনের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে

বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যের শেষ বিন্দুটিও কি আজ মুছে যেতে বসেছে? একজন নারী এবং এই রাজ্যের নাগরিক হিসেবে আজ লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসছে। আমাদের গর্ব, আমাদের শেষ ভরসা—ভারতীয় সেনাবাহিনী। অথচ, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সেই সেনার গায়েও রাজনীতির কাদা ছড়াতে দ্বিধা করলেন না। ফোর্ট উইলিয়ামের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কি প্রমাণ করতে চাইলেন? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অরাজকতাই কি তবে বাংলার ভবিতব্য? সময় এসেছে গর্জে ওঠার।

সেনাবাহিনীর অপমানে স্তম্ভিত বাংলা

গত ১৩ জানুয়ারি নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী এক বিস্ফোরক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কম্যান্ডেন্ট নাকি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন এবং ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করছেন। কোনো প্রমাণ নেই, কোনো নথি নেই—কেবল মুখের কথায় তিনি দেশের প্রহরীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন। একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে এমন অবিন্যস্ত কথা কি শোভা পায়?

ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অপমানে চুপ থাকেনি। তারা সরাসরি এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেনার দুই শীর্ষ জেনারেল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া একজন কর্মরত সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ কেবল ভিত্তিহীনই নয়, তা সেনাবাহিনীর সংবিধানিক মর্যাদা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভাবুন তো, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হলে সেনার জেনারেলদের বিচার চাইতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে হয়!

হতাশা নাকি ভয়ের বহিঃপ্রকাশ?

হঠাৎ কেন সেনার বিরুদ্ধে এই বিষোদ্গার? রাজনৈতিক মহলের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ইডি-র সাম্প্রতিক তৎপরতা। আইপ্যাক-এর দপ্তরে ইডি-র হানার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে অত্যন্ত বিচলিত দেখাচ্ছে। দুর্নীতি আর স্বজনপোষণ যখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, তখন কি দৃষ্টি ঘোরানোর জন্যই এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ? ইডি ডিরেক্টর রাহুল নবীন কলকাতায় আসছেন, বৈঠক করছেন—এই ভয়েই কি এখন জলঘোলা করার চেষ্টা?

কিন্তু মনে রাখবেন, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, তারা দেশের। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে সাময়িক হাততালি হয়তো পাওয়া যায়, কিন্তু দেশের মানুষের মন পাওয়া যায় না। রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং কেন্দ্রকে অবহিত করেছেন।

২০২৬: সম্মানের লড়াইতে বিজেপির পাশে দাঁড়ান

আজ যারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে সেনাবাহিনীর সম্মান ধুলোয় মেশাতে পারে, তারা আর যাই হোক, বাংলার বা দেশের রক্ষক হতে পারে না। এই অরাজকতার অন্ধকারের মাঝে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক আশার প্রদীপ। বিজেপি বিশ্বাস করে, দেশের জওয়ানরা আমাদের গর্ব, রাজনীতির ঘুঁটি নয়।

আগামী ২০২৬-এর নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই। যে সরকার প্রমাণ ছাড়া সেনাকে অপমান করে, তাদের হাতে কি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ তুলে দেব? নাকি সেই দলের পাশে দাঁড়াব, যারা ‘রাষ্ট্রই প্রথম’ মন্ত্রে দীক্ষিত? বাংলার মা-বোনেদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আসুন, এই অপমানের বদলা নিই ব্যালটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঔদ্ধত্যের জবাব দিয়ে ২০২৬-এ বিজেপিকে জয়ী করুন, যাতে বাংলায় ফের সুশাসন ও শ্রদ্ধার পরিবেশ ফিরে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.