২০২৬: শুধু ক্ষমতা দখল নয়, এ লড়াই বাংলার আত্মা বাঁচানোর

২০২৬: শুধু ক্ষমতা দখল নয়, এ লড়াই বাংলার আত্মা বাঁচানোর

বাংলার রাজনীতিতে ২০২৬ সাল কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা ওলটানো নয়, এ এক মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি। উত্তরবঙ্গের চা বাগান থেকে হুগলি নদীর তীর—সর্বত্র আজ একটাই গুঞ্জন। মমতার দুর্গ কি অভেদ্য? নাকি দীর্ঘ পনেরো বছরের অপশাসন, দুর্নীতি আর তোষণের রাজনীতি আজ সেই দুর্গের ভিতে ফাটল ধরিয়েছে? একজন সচেতন নাগরিক ও নারী হিসেবে আজ মনে হচ্ছে, ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর স্লোগান এখন কেবলই প্রহসন। ২০২৬-এর নির্বাচন তাই কেবল বিধায়ক বাছার নির্বাচন নয়, এ লড়াই বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার, বিজেপির হাত ধরে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখার।

দুর্নীতির পাহাড় ও নারী সুরক্ষার প্রশ্ন

আর জি কর কাণ্ডের পর বাংলার প্রতিটি নারী আজ শঙ্কিত। যে সরকার তার নিজের রাজ্যের মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, উল্টে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করে, তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কি আর অবশিষ্ট আছে? শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন বন্টন—কোথাও কি স্বচ্ছতা আছে? মন্ত্রীদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার পাহাড় উদ্ধার হতে দেখেছি আমরা। এই কি ছিল আমাদের স্বপ্নের বাংলা? শাসক দলের এই সীমাহীন ঔদ্ধত্য আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ একমাত্র বিজেপিই প্রকৃত প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতার সরকারের “রিভার্স কাউন্টডাউন” বা পতনের উল্টো গণনা যে শুরু হয়ে গেছে, তা আজ স্পষ্ট।

তোষণ বনাম তোমরাই ভবিষ্যৎ

বাংলার জনবিন্যাস আজ সংকটের মুখে। অনুপ্রবেশের সমস্যা আজ আর গোপন নেই, অথচ ভোটব্যাংকের স্বার্থে শাসক দল একে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহা যথার্থই বলেছেন, এই লড়াই বাংলার “আত্মা বাঁচানোর লড়াই” বা সিভিলাইজেশনাল আইডেন্টিটি রক্ষার লড়াই। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড দিয়ে যেভাবে জনমিতি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অশনি সংকেত। মতুয়া সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই আজ সুবিচার চায়। সিএএ (CAA) নিয়ে শাসক দলের মিথ্যা প্রচারের মুখোশ খুলে দিয়ে বিজেপি আজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, এই মাটিতে ভূমিপুত্রদের অধিকার সুনিশ্চিত হবেই।

বিকল্প একমাত্র বিজেপিই

অনেকে হয়তো কংগ্রেস বা বামপন্থীদের কথা ভাবছেন। কিন্তু বাস্তব হলো, বাংলায় এই শক্তিগুলোর প্রাসঙ্গিকতা আজ তলানিতে। কংগ্রেস আজ অস্তিত্ব সংকটে, আর বামেরা তাদের ৩৪ বছরের দুর্গে আজ নিজেরাই পরবাসী। এই দ্বিমেরু বা বাইপোলার লড়াইয়ে ভোট নষ্ট করার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকেই সাহায্য করা। বিহারে এনডিএ-র বিপুল জয় প্রমাণ করেছে যে হাওয়া ঘুরছে। গঙ্গার স্রোত এবার বাংলার দিকে।

২০২৬-এ আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে এই অরাজকতার অবসান ঘটানোর। বিজেপি আজ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বিজেপি আজ সুশাসন ও উন্নয়নের প্রতীক। মোদীজির নেতৃত্বে যে উন্নয়নের জোয়ার সারা ভারতে এসেছে, বাংলাকে তার অংশ হতে হবে। অজুহাত আর মিথ্যের রাজনীতির দিন শেষ। আসুন, বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে এবং আমাদের সংস্কৃতি ও সম্মান বাঁচাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। পদ্ম ফুলেই হোক আগামীর বাংলার নবজাগরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.