আর একটু হলে সদ্যোজাত অবস্থায় পাল্টাপাল্টি হয়ে জেলেনীর কোলে চলে যাচ্ছিলেন এই মহাতারকা

আর একটু হলে সদ্যোজাত অবস্থায় পাল্টাপাল্টি হয়ে জেলেনীর কোলে চলে যাচ্ছিলেন এই মহাতারকা


তাঁকে বলা হয় ভারতীয় ক্রিকেটের নেপোলিয়ন | সুনীল মনোহর গাভাসকর | পার করলেন ৬৯ বছর বয়স | তাঁকে ঘিরে কিছু তথ্য |

জন্ম ১৯৪৯ সালের ১০ জুলাই | আর একটু হলেই নাকি পাল্টাপাল্টি হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি | হাসপাতালে সদ্যোজাত ভাইপোর বাঁ কানের লতির নিচে তিল লক্ষ করেছিলেন কাকা | ভাগ্যিস করেছিলেন ! পরের দিন তিনি গিয়ে দেখেন শিশুর কানের লতির নিচে ওই তিল নেই | সঙ্গে সঙ্গে জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে | সন্ধান শুরু হতেই দেখা গেল হাসপাতালে এক জেলেনীর পাশেঘুমিয়ে আছে সেই শিশু | যার কানের লতির নিচে জ্বলজ্বল করছে তিল | ভুল বুঝতে পেরে নবজাতকদের হাতের ট্যাগ মিলিয়ে শিশু অদলবদল শুধরে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ |

পরিবারে তিনি একাই ক্রিকেটার নন | তাঁর মামা মাধব মন্ত্রী ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন | গাভাসকারের বোন নূতনও খেলেছেন ক্লাব স্তরীয় ক্রিকেট | তাঁর স্বামী আর এক প্রখ্যাত ক্রিকেটার গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথন | সুনীল গাভাসকারের পুত্র রোহন অবশ্য ১১ টি ওয়ানডে-এর বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি |

আশৈশব ইচ্ছে ছিল কুস্তিগীর হওয়ার | স্বপ্ন বদলে দিল একটা নীল পুলওভার | মামার সেই পুলওভারটা পেতে খুব ইচ্ছে করত | মামা বলেন‚ ওটা পাওয়ার জন্য খেলতে হবে জাতীয় দলে |

১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিষেক | যে টেস্টে খেলার কথা ছিল‚ খেলতে পারেননি নখে সংক্রমণ হওয়ায় | অভিষেক হয় পরের টেস্টে !

টেস্টে প্রথম রান এসেছিল লেগ বাই থেকে | তবে আম্পায়ারের ভুলে ব্যক্তিগত রান হিসেবে যোগ হয়েছিল গাভাসকরের নামের পাশে |

১৯৭৪ সালে ওল ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলছিল টেস্ট | ব্যাট করার সময়ে বারবার চোখের উপর চুল এসে পড়ছিল | গাভাসকরের অনুরোধে চুল কেটে দিয়েছিলেন আম্পায়ার ডিকি বার্ড |

বিরল এবং দুর্লভ হলেও তিনি বোলিংও করেছেন | কেরিয়ারে একমাত্র উইকেট পাকিস্তানের জাহির আব্বাসের | ১৯৭৮-৭৯ সিরিজে |

মরাঠি ছবি সাভলি প্রেমাচিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন | ক্যামিও করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ-এর মালামাল ছবিতে | মরাঠিতে গানও রেকর্ড করেছেন |

দিল্লিতে তাঁর কাছে অটোগ্রাফ নিতে এসেছিলেন মার্সেনীল | সেই থেকে আলাপ ও প্রেম | ১৯৭৩ সালে বিয়ে করেন কানপুরের চর্মশিল্পের নামী ব্যবসায়ী মেরহোত্রা পরিবারের মেয়ে মার্সেনীলকে |
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান রোহন কানহাইয়ের ভক্ত তিনি | তাই একমাত্র ছেলের নাম রেখেছিলেন রোহন |

১৯৯৪ সালে এক বছরের জন্য ছিলেন মুম্বইয়ের শেরিফ পদে !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.