ভারতের নিজস্ব দিকনির্ণয়কারী ব্যবস্থা ‘নাভিক’কে আরও শক্তিশালী করার পথে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। গত ৩০ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি রকেটের সাহায্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ এনভিএস-০৩। বুধবার সেটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সফল ভাবে পৌঁছে দিয়েছে ইসরো। পর পর তিনটি ধাপের মাধ্যমে উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এই সাফল্যে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
প্রায় ২২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের এনভিএস-০৩ হল ইসরোর পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজ়ের তৃতীয় উপগ্রহ। পাশাপাশি, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জিএসএলভি রকেটের সাহায্যে সফল ভাবে ২০ বার মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর নজির গড়ল ভারত।
বর্তমানে পথনির্দেশ, মানচিত্রে নির্দিষ্ট কোনও স্থানের অবস্থান নির্ণয় কিংবা সঠিক সময় গণনার ক্ষেত্রে ভারত অনেকাংশেই আমেরিকার জিপিএস প্রযুক্তি এবং উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভরশীল। এনভিএস-০৩ সেই নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রুবিডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি রয়েছে এই উপগ্রহে। এর সাহায্যে এল১, এল৫ এবং এস ব্যান্ডে সরাসরি সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব হবে।
এর মধ্যে এল১ ব্যান্ড সাধারণ স্মার্টফোন এবং স্মার্টওয়াচের চিপের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই উপগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীরা মানচিত্রে আরও নির্ভুল অবস্থান জানতে পারবেন। পাশাপাশি, সময় গণনার ক্ষেত্রেও বাড়বে নির্ভুলতা।
দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকার জিপিএস ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব নেভিগেশন প্রযুক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। সেই লক্ষ্য পূরণে ‘নাভিক’ বা ‘নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যবস্থা ভারতকে নিজস্ব উপগ্রহ-নির্ভর দিকনির্ণয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করে তুলবে। এনভিএস-০৩-এর সফল স্থাপন সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা ইসরোর।
এ ছাড়াও দেশের সময় গণনা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও এই উপগ্রহের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরু, অহমদাবাদ এবং ফরিদাবাদের পাঁচটি রিজিওনাল রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরিজ়ে জাতীয় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেকেন্ডারি টাইম-স্কেল তৈরি করা হয়েছে। এনভিএস-০৩ থেকে পাওয়া তথ্য সেই ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসরোর এই সাফল্য তাই শুধু মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণ প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

