প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘মোদী সরকারের হাতের পুতুল’ কটাক্ষ খড়্গের, পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি তুললেন ৫ দফা দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘মোদী সরকারের হাতের পুতুল’ কটাক্ষ খড়্গের, পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি তুললেন ৫ দফা দাবি

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড় হওয়ার আবহে এবার দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তীব্র সমালোচনায় মুখর হলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মোদী সরকারের হাতের পুতুল’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চাপের মুখে নতিস্বীকার করে কাজ করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই পরিস্থিতিতে নৈতিকতার দায় মেনে প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী ‘কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি’র (CWC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিরোধী দলনেতা খড়্গে ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়েছে:

১. পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ: ভোটার তালিকায় কোথায়, কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।

২. বাদ পড়া ভোটারদের পুনর্বাসন: বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নাম পুনরায় যুক্ত করার সুযোগ দিতে হবে এবং কী কারণে নাম বাদ গিয়েছে, তার সবিস্তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

৩. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৪. অসঙ্গতির নিরপেক্ষ তদন্ত: এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব অঞ্চলে গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির তথ্য মিলেছে, সেখানে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।

৫. তথ্যের স্বচ্ছতা রক্ষা: নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও সিদ্ধান্তসমূহ স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে, যাতে ভোটার বা রাজনৈতিক দলগুলির মনে কোনো প্রকার সন্দেহ তৈরি না হয়।

খড়্গে অভিযোগ করেন, “দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর নিজের সহকর্মীরাই আর বিশ্বাস করতে পারছেন না।” রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারের স্বার্থরক্ষায় বিরোধী সমর্থক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছেন কমিশনের একাংশ আধিকারিক। একই সঙ্গে নতুন ভোটারদের নাম নিবন্ধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জটিল করে তুলেছে বলেও সরব হন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার—সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রেখেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ज्ञानেশ কুমার। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়া, যুক্ত করা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন এই দুই কমিশনার।

যদিও কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সিদ্ধান্তসমূহ সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়। তবে এই স্পষ্টীকরণে বিতর্ক থামেনি; বরং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আরও সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.