নতুন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, মুখ খুলল সদন

নতুন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, মুখ খুলল সদন

বার্ষিক ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা কেন্দ্র করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু ও বিবেক জোশীর মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিয়ম মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়া তথ্য

জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশজুড়ে বার্ষিক এসএসআর প্রক্রিয়া না হওয়ায় বহু তরুণ-তরুণী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ‘ঢিলেমি’ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী তাঁদের আপত্তির কথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল ডাটাবেস অ্যাক্সেস সংক্রান্ত নানা বিষয়ে অন্তত ১৪ বার ‘অন-রেকর্ড’ আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে যে, সমস্ত সিদ্ধান্তই আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের অবস্থান ও আইনি ব্যাখ্যা

বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুক্রবার নির্বাচন সদনের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়। কমিশনের দাবি, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় কোনও গড়িমসি করা হয়নি। বরং ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি প্রায় ২ কোটি ৭৩ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী:

  • ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৪ নম্বর ধারার ২০২১ সালের সংশোধন এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যে কোনও যোগ্য নাগরিক যাঁর বয়স ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই বা ১ অক্টোবর ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তিনি এসএসআর-এর জন্য অপেক্ষা না করেই ফর্ম পূরণ করে অগ্রিম আবেদন জানাতে পারেন।
  • এসএসআর এবং এসআইআর— উভয় প্রক্রিয়াটিই ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারার অধীনে পরিচালিত হয়। তবে আইন অনুযায়ী এই দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো বাধ্যতামূলক নয়।
  • আইনত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আবেদন যাচাই করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন কমিশনের অন্দরের এই মতবিরোধ ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার খবর সামনে আসার পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সওয়াল-জবাব। তবে কমিশনার সঁধু ও জোশীর মূল যুক্তি ছিল যে, এসআইআর-এর মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অজুহাতে প্রতি বছর নতুন ভোটারদের ভোটাধিকার পাওয়ার বাৎসরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। যদিও এই বার্ষিক এসএসআর প্রক্রিয়া কেন স্থগিত রয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের তরফে সরাসরি কোনও সন্তোষজনক সাফাই দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.