আগামী ১১ দিনে তিনটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী ম্যাচে নামছে ভারতীয় ফুটবল দল। যার প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শুক্রবার, বেঙ্গালুরুতে। এই ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে সদ্য বিশ্বকাপ খেলা দল পানামা। ম্যাচের ঠিক আগের দিন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল এবং গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সঁধু দুজনেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বিশ্বমানের দল হয়ে উঠতে গেলে ঠিক কী কী প্রয়োজন, তা তাঁরা এই তিন ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিতে চান।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বড় ফারাক ও প্রতিপক্ষ পানামা
এই মুহূর্তে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে, সেখানে পানামার অবস্থান ৪৪ নম্বরে। অতীতে দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। অতীতে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার মতো কঠিন দলের গ্রুপে পড়েছিল পানামা। যদিও তারা একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি, তবে নিজেদের লড়াকু ফুটবল দিয়ে সকলের মন জয় করেছিল।
ম্যাচের আগে গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সঁধু বলেন, “আগামীকাল একটা নতুন শুরু হতে চলেছে। বিশ্বকাপের দলগুলো কেমন খেলে, তা আমরা মাঠে দেখতে চাই। পানামা বিশ্বকাপ খেলে এসেছে এবং বেশ ভালো খেলেছে। ফলাফল ওদের পক্ষে না গেলেও খেলার ধরন দারুণ ছিল। আমরাও ভালো ফুটবল খেলতে চাই। জানি কাজটা কঠিন, কিন্তু জেতার খিদে থাকতে হবে। নতুন ফুটবলারদের তুলে এনে এমন একটা দল তৈরি করতে হবে যাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়।”
সঁধু আরও যোগ করেন, “শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে তবেই উন্নতি সম্ভব। আমরা একধাপ এগিয়ে যেতে চাই এবং এই ধরনের ম্যাচ ভবিষ্যতে আরও বেশি করে খেলতে হবে।”
তরুণদের সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে কোচ খালিদ জামিল
ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে কোচ খালিদ জামিলও পানামার বিরুদ্ধে খেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সবে বিশ্বকাপ খেলে আসা দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলা আমাদের কাছে অত্যন্ত বড় সুযোগ। ওরা বিশ্বকাপে চমৎকার খেলেছে, ফলে আমাদের সামনে একটি কঠিন পরীক্ষা রয়েছে।”
দলের কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলারকে বাদ দিয়ে তরুণদের দলে জায়গা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কোচ বলেন, “কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছি ঠিকই, তার মানে এই নয় যে তাদের আর নেওয়া হবে না। তারা আবার দলে ফিরবে। তবে একটি নতুন দল গঠন করতে গেলে তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের বেশি করে ম্যাচ খেলাতে হবে। ভবিষ্যতে আমরা সিনিয়র ও জুনিয়রদের মিশিয়েই দল তৈরি করব।”
পাশাপাশি ফুটবলারদের রক্ষণাত্মক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে জামিল বলেন, “কঠিন দলের বিরুদ্ধে খেলছি মানেই সারা ম্যাচ শুধু রক্ষণ সামলালে চলবে না। আমাদের রক্ষণ এবং আক্রমণের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে।”
বিরল সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে মরিয়া দল
এই ধরনের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াকে অত্যন্ত দুর্লভ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীত। তাঁর মতে, “এই তিনটি ম্যাচ খেলা আমাদের কাছে একরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। আমার ফুটবলজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি এবং আগামী দিনেও এমন সুযোগ বারবার আসবে না। এই দলগুলোকে ম্যাচ খেলার জন্য রাজি করানোও একটা বড় ব্যাপার। এই সিরিজের মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারব যে এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবল ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।”

